
বিশ্বকাপসহ ফিফার বড় টুর্নামেন্টের অংশীদারত্ব বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রির পরিকল্পনা ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্কের মধ্যে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর প্রতি সমর্থন জানিয়েছে সৌদি আরব ফুটবল ফেডারেশন (এসএএফএফ)।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) এক বিবৃতিতে সৌদি ফুটবল ফেডারেশন জানায়, ফিফা সভাপতি ও মহাসচিবের সাম্প্রতিক যৌথ খোলা চিঠিতে ভুল স্বীকার, ক্ষমা প্রার্থনা এবং বিতর্কিত ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ (এফএফই) প্রস্তাব বাস্তবায়ন না করার সিদ্ধান্তকে তারা স্বাগত জানায়। একই সঙ্গে ফুটবলের বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে সরাসরি আলোচনার মাধ্যমে ঐক্য ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানিয়েছে তারা।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই সময়ে সৌদি আরব ফুটবল ফেডারেশন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো এবং ফিফার নেতৃত্বের চলমান প্রচেষ্টাকে সমর্থন করছে। ফুটবল পরিবারের মধ্যে ঐক্য ফিরিয়ে আনা এবং সবার কল্যাণে খেলাটির উন্নয়নে তাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকা উচিত।
সৌদি আরবের এই সমর্থনকে আন্তর্জাতিক ফুটবলে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। ২০৩৪ সালের পুরুষ বিশ্বকাপের আয়োজক সৌদি আরব ফিফার অন্যতম প্রধান অংশীদার। ২০২৫ সালের ক্লাব ফুটবল বিশ্বকাপেও ফিফার বাণিজ্যিক অংশীদার ছিল দেশটির পাবলিক ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড (পিআইএফ)। এ ছাড়া সাম্প্রতিক বিশ্বকাপগুলোতেও উত্তর আমেরিকা ও এশিয়া অঞ্চলে অন্যতম প্রধান স্পন্সর ছিল তারা। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিশ্ব ফুটবলে দেশটির প্রভাব ও সম্পৃক্ততা দ্রুত বেড়েছে।
ইনফান্তিনোর নেতৃত্বের প্রশংসা করে সৌদি ফেডারেশন আরও বলেছে, গত তিনটি বিশ্বকাপ দেখিয়েছে, ফুটবলের বৈশ্বিক পরিবার একসঙ্গে কাজ করলে এই খেলা কত কিছু অর্জন করতে পারে। প্রায় এক দশক ধরে বিশ্বজুড়ে ফুটবলের উন্নয়নে ফিফা সভাপতির অবদানও স্বীকৃতি পাওয়া উচিত।
তবে ইনফান্তিনোর জন্য পরিস্থিতি এখনো সহজ নয়। ফিফা টুর্নামেন্টের বাণিজ্যিক স্বত্ব নিয়ে কাজ করা একটি প্রতিষ্ঠানের ২০ শতাংশ অংশীদারত্ব বিক্রির প্রস্তাব দিয়েছিলেন তিনি। ‘ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ’ নামে পরিচিত সেই পরিকল্পনা শেষ পর্যন্ত তীব্র বিরোধিতার মুখে বাতিল করতে হয়। এরপর থেকেই ফিফা সভাপতির নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন আরও জোরালো হয়েছে।
আগামী মার্চে মরক্কোর রাবাতে অনুষ্ঠেয় নির্বাচনে ফিফা সভাপতি হিসেবে চতুর্থ ও শেষ মেয়াদের জন্য প্রার্থী হওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে ইনফান্তিনোর। কিন্তু এরই মধ্যে কয়েকটি সদস্যদেশ তার প্রার্থিতা থেকে সমর্থন সরিয়ে নিয়েছে। একই সঙ্গে ইউরোপিয়ান ফুটবল সংস্থা, এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন এবং উত্তর ও মধ্য আমেরিকা ও ক্যারিবিয়ান অঞ্চলের ফুটবল সংস্থাও তার পদত্যাগের দাবি নিয়ে আলোচনা করছে।