
ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোতে রাশিয়ার হামলার আশঙ্কা নিয়ে ইউরোপীয় নেতাদের উদ্বেগকে পুরোপুরি নাকচ করে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসকে ফোনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, এ নিয়ে তিনি মোটেও উদ্বিগ্ন নন এবং এমন কোনো সমস্যা নেই।
ন্যাটোর অনুচ্ছেদ ৫ অনুযায়ী যৌথ প্রতিরক্ষায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতি অব্যাহত থাকবে কি না এবং রাশিয়া ন্যাটোর সামরিক সক্ষমতা পরীক্ষা করতে পারে কি না—এমন উদ্বেগের মধ্যেই ট্রাম্প এ মন্তব্য করলেন।
এর আগে মঙ্গলবার সিআইএ পরিচালক জন র্যাটক্লিফ গোপনে মস্কো সফর করেন। সেখানে তিনি রুশ গোয়েন্দা প্রধান সের্গেই নারিশকিনের সঙ্গে বৈঠক করেন। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, ন্যাটোভুক্ত কোনো দেশে হামলা না চালানোর বিষয়ে মস্কোকে সতর্ক করতেই র্যাটক্লিফ রাশিয়া সফর করেছেন।
তবে এ ধরনের খবর অস্বীকার করেছেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, র্যাটক্লিফ রাশিয়াকে এ ধরনের কোনো বার্তা দেননি। সিআইএ পরিচালকের মস্কো সফরকে ‘সাধারণ ও নিয়মিত দাফতরিক কাজ’ হিসেবে বর্ণনা করে ট্রাম্প বলেন, র্যাটক্লিফ প্রতি ছয় মাস বা এক বছর পরপর রুশ গোয়েন্দা প্রধানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তাদের মধ্যে ভালো সম্পর্ক রয়েছে এবং বৈঠকে বিশেষ কোনো বার্তা দেওয়া হয়নি।
পরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবেও ট্রাম্প বলেন, রাশিয়া ন্যাটোর ভূখণ্ডে হামলা চালাবে না।
রাশিয়ার বৈদেশিক গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান সের্গেই নারিশকিনও র্যাটক্লিফের সঙ্গে বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, এটি নিয়মিত কাজের অংশ ছিল এবং বৈঠকে অস্বাভাবিক বা ব্যতিক্রমী কিছু ঘটেনি। সেখানে সাধারণ গোয়েন্দা বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
এদিকে রোমানিয়া ও পোল্যান্ডসহ একাধিক ন্যাটো সদস্য দেশের আকাশসীমায় প্রবেশ করা কয়েকটি রুশ ড্রোন সম্প্রতি ভূপাতিত করা হয়েছে। এ নিয়ে ন্যাটো ও রাশিয়ার মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
এর মধ্যেই বৃহস্পতিবার রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, ইউক্রেনকে দূরপাল্লার অস্ত্র ও প্রযুক্তি সরবরাহ করে যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স ‘আগুন নিয়ে খেলছে’। এর জবাবে ইউক্রেনের ভেতরে ও বাইরে ব্রিটিশ সামরিক স্থাপনায় হামলার হুমকিও দিয়েছে মস্কো।