
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট-২০২৬ উপলক্ষে ভোটের তথ্য প্রকাশ ও মনিটরিংয়ের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশন (ইসি) দুই ঘণ্টা অন্তর ভোটের সংখ্যা জানাতে নির্দেশ দিয়েছে। সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) ইসির সিনিয়র সহকারী সচিব মো. শহিদুল ইসলাম এই নির্দেশনা দেশের সব রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে পাঠিয়েছেন।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, প্রতিটি ভোটকেন্দ্র থেকে দুই ঘণ্টা অন্তর প্রদত্ত ভোটের সংখ্যা সংগ্রহ করে তা রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে পাঠাতে হবে। এ কাজের জন্য সহকারী রিটার্নিং অফিসার কর্তৃক নিয়োজিত ডাটা এন্ট্রি অপারেটররা ইলেকশন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (ইএমএস) এ লগইন করে প্রতিটি কেন্দ্রের ভোটের সংখ্যা এন্ট্রি করবেন।
ভোটের তথ্য এন্ট্রি করার পর সহকারী রিটার্নিং অফিসার তা যাচাই করে অনুমোদন দেবেন। এরপর রিটার্নিং অফিসার এবং নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে ‘Kopot Dashboard’-এ সেই তথ্য সরাসরি দেখা যাবে। এই প্রক্রিয়া ভোট গণনার স্বচ্ছতা বাড়াতে এবং ভোটের চলমান চিত্র পর্যবেক্ষণে সহায়ক হবে।
ইসি জানিয়েছে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সকাল ৭টা ৩০ মিনিট থেকে বিকেল ৪টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। ভোটগ্রহণের সময় প্রত্যেক ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত ভোটার এবং ভোট প্রক্রিয়া নিয়ম অনুযায়ী সম্পন্ন হবে। নির্বাচনী কর্মকর্তাদের পাশাপাশি ভোটকেন্দ্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রিসাইডিং অফিসার, পুলিশ এবং অনুমোদিত আনসার সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন।
নির্বাচন কমিশনের এই উদ্যোগ নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ভোটের তথ্য দুই ঘণ্টা অন্তর পর্যবেক্ষণ করা হলে ভোটে অনিয়ম ও বিশৃঙ্খলা কমানো সম্ভব হবে এবং জনগণও ভোটের ধারাবাহিক চিত্র সহজে জানতে পারবে।
এছাড়া, ইসি জানিয়েছে, তথ্য আপডেটের জন্য ব্যবহৃত ইএমএস সিস্টেমের মাধ্যমে ভোটের ফলাফল দ্রুত এবং সঠিকভাবে কেন্দ্রীভূত করা সম্ভব হবে। নির্বাচনের দিন কেন্দ্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের পাশাপাশি মনিটরিং কর্মকর্তা এবং সংবাদমাধ্যমকেও প্রাসঙ্গিক তথ্য জানানো হবে।
নির্বাচন কমিশন এই ব্যবস্থা নিশ্চিত করেছে যাতে নির্বাচনী প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়। দুই ঘণ্টা অন্তর অন্তর ভোটের তথ্য প্রকাশের মাধ্যমে ভোটারদেরও আস্থা বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।