
রাত পোহালেই সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। দীর্ঘ প্রতীক্ষার নির্বাচন। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে দেশের বহুল প্রতীক্ষিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। গণতান্ত্রিক এই ধারাবাহিকতাকে সফল করতে সারাদেশে চলছে শেষ মুহূর্তের ব্যস্ততা।
বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকেই রাজধানীর রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজ প্রাঙ্গণে দেখা গেছে নির্বাচনী প্রস্তুতির এক কর্মচঞ্চল দৃশ্য। প্রিজাইডিং ও পোলিং অফিসারদের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে ব্যালট বাক্সসহ নির্বাচনের সব প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম।
সকাল থেকেই বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা কলেজ প্রাঙ্গণে জড়ো হন। নির্ধারিত বুথ থেকে তারা ব্যালট বাক্স, স্বচ্ছ ব্যালট পেপার (সংসদ নির্বাচনের জন্য সাদা ও গণভোটের জন্য গোলাপি), সিল, স্ট্যাম্প, ভোটার তালিকা এবং অমোচনীয় কালিসহ যাবতীয় উপকরণ বুঝে নিচ্ছেন। দায়িত্বের গুরুত্ব অনুধাবন করে প্রতিটি সরঞ্জাম তালিকা মিলিয়ে সতর্কতার সঙ্গে গ্রহণ করছেন তারা।
নির্বাচনী সরঞ্জাম নিরাপদে কেন্দ্রে পৌঁছে দিতে প্রতিটি দলের সঙ্গে থাকছেন সশস্ত্র পুলিশ সদস্যরা। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে রাজধানীসহ সারাদেশে গড়ে তোলা হয়েছে বহুমাত্রিক নিরাপত্তা বলয়। ভোটকেন্দ্রের ভেতরে দায়িত্ব পালন করছেন আনসার ও পুলিশ সদস্যরা; বাইরে টহলে রয়েছে সেনাবাহিনী, বিজিবি ও র্যাব। এই নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভোটারদের মধ্যে আস্থার সঞ্চার করছে।
একটি কেন্দ্রের সার্বিক নিয়ন্ত্রক হিসেবে প্রিজাইডিং অফিসারদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সরঞ্জাম গ্রহণের সময় অনেক কর্মকর্তার চোখেমুখে ছিল গুরুদায়িত্ব পালনের দৃঢ় প্রত্যয়। পোলিং অফিসাররাও ভোটার তালিকা যাচাই ও ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া নির্বিঘ্ন করতে নিজেদের প্রস্তুতি সম্পন্ন করছেন।
রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজে দায়িত্বপ্রাপ্ত এক কর্মকর্তা বলেন, “এটি শুধু প্রশাসনিক দায়িত্ব নয়, দেশের ভবিষ্যতের প্রতি আমাদের অঙ্গীকার। আমরা স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।”
নির্বাচন কমিশন, স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত প্রস্তুতিতে এবারের ভোটের আয়োজন সম্পন্ন হয়েছে। রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজের দৃশ্য যেন সারা দেশেরই প্রতিচ্ছবি। সরঞ্জাম বিতরণ শেষে কর্মকর্তারা পুলিশি পাহারায় নিজ নিজ কেন্দ্রে রওনা হয়েছেন।
এখন অপেক্ষা কেবল আগামী সকালের। ভোটাররা তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে বেছে নেবেন আগামী দিনের নেতৃত্ব। প্রশাসনের প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা বাহিনীর তৎপরতা শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের প্রত্যাশা জোরদার করেছে। ইতোমধ্যেই ঢাকা থেকে গ্রামে ফিরে গেছেন মানুষ। ফাঁকা হয়ে গেছে রাজধানী। নেই চিরচেনা জ্যাম ও ব্যস্ত নগরী ঠিক আগের মতো।