
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে মন্দিরের সম্পত্তি উদ্ধারের দাবিতে আয়োজিত মানববন্ধনে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে নারীসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।
বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে উপজেলার বাদে অরুয়াইল গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। হামলার মধ্যেও বিক্ষোভ কর্মসূচি চালিয়ে যান হিন্দু সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণকারীরা। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়।
সরেজমিনে দেখা যায়, বিরোধপূর্ণ জায়গার একটি দৃশ্যমান খাল বালু দিয়ে ভরাট করা হয়েছে, ফলে পানিপ্রবাহ বন্ধ হয়ে গেছে। এতে স্থানীয় কৃষকেরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বলে জানা গেছে।
দুপুর ২টার দিকে মোহনলাল জিউর মন্দির প্রাঙ্গণ থেকে শত শত নারী-পুরুষের একটি মিছিল বের হয়। তারা দখলকৃত বলে দাবি করা স্থানে গিয়ে স্লোগান দেন। এ সময় সহিদ মিয়া ও তার অনুসারীরা বাধা দেন।
একপর্যায়ে রোকন উদ্দিন নামে এক যুবক কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছুড়তে শুরু করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে আরও ২০ থেকে ২৫ জন লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলায় যোগ দেয়। এতে অন্তত ১০ জন আহত হন। আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
মন্দির কমিটির নেতাদের দাবি, জমি সংক্রান্ত মামলা চলমান থাকা সত্ত্বেও প্রতিবেশী সহিদ মিয়া বালু ফেলে জায়গা দখলের চেষ্টা করেছেন। একই সঙ্গে খালের ওপরও মাটি ফেলা হয়েছে। তারা জানান, মন্দিরের সম্পত্তি রক্ষার দাবিতে মানববন্ধন করতে গেলে হামলার শিকার হন। তাদের অভিযোগ, রোকন নামে এক যুবক প্রথমে কয়েকজনকে উসকে দিয়ে ঢিল ছোড়ে, পরে অন্যরা সংঘবদ্ধভাবে আক্রমণ চালায়।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে সহিদ মিয়া বলেন, ‘মন্দিরের জায়গায় তিনি মাটি ফেলেননি। যেটি খাল দেখা যায় সেটি আসলে জমি। তাদের মানববন্ধনে আমরা হামলা করিনি। একটি চক্র এটার পেছনে কাজ করছে।’
অরুয়াইল ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. মোশারফ হোসেন বলেন, ‘জমি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছে। দুই পক্ষই নিজের জায়গা বলে দাবি করে। আদালতে মামলা চলমান বিধায় বিষয়টি মীমাংসা করা যায়নি। খাল দখল করতে সহিদ মিয়াকে নিষেধ করা হয়। দিনে না করলে রাতে তিনি খাল ভরাট করে ফেলেন।’