
দৈনিক ভোরের কাগজ–এর সম্পাদক শ্যামল দত্ত ও তার পরিবারের সদস্যদের এবং একাত্তর টেলিভিশনের সিইও মোজাম্মেল হক বাবু ও তার পরিবারের সদস্যদের ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধের আদেশ দিয়েছেন আদালত।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পৃথক দুটি আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. সাব্বির ফয়েজ এই আদেশ দেন।
আদালতের আদেশ অনুযায়ী, শ্যামল দত্ত ও তার স্ত্রী সঞ্চিতা দত্তের নামে থাকা মোট ১৮টি ব্যাংক হিসাব এবং মোজাম্মেল হক বাবু, তার স্ত্রী অপরাজিতা হক ও তাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর নামে থাকা ১১টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করা হয়েছে।
ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. রিয়াজ হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
দুদকের আবেদনে বলা হয়, শ্যামল দত্ত, তার স্ত্রী, কন্যা এবং তাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নামে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অস্থাবর সম্পদ অর্জনের তথ্য পাওয়া গেছে। অনুসন্ধানকালে এসব সম্পদ অর্জনের পক্ষে কোনো সুস্পষ্ট ও বৈধ উৎস পাওয়া যায়নি। বরং বিভিন্ন হস্তান্তর ও স্থানান্তর প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রকৃত উৎস আড়াল করার চেষ্টা করা হয়েছে, যা মানিলন্ডারিং–সংক্রান্ত অপরাধ বলে প্রতীয়মান হয়েছে। অভিযোগ সংশ্লিষ্ট এসব সম্পদ হস্তান্তর, স্থানান্তর বা মালিকানা পরিবর্তনের আশঙ্কা থাকায় সুষ্ঠু অনুসন্ধানের স্বার্থে ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করা প্রয়োজন বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়।
মোজাম্মেল হক বাবু সংক্রান্ত আবেদনে একই ধরনের অভিযোগ তুলে ধরা হয়। সেখানে বলা হয়, মোজাম্মেল হক বাবু, তার স্ত্রী, কন্যা ও স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর নামে একাধিক অস্থাবর সম্পদ অর্জনের তথ্য পাওয়া গেছে। অনুসন্ধানকালে এসব সম্পদের বৈধ উৎস পাওয়া যায়নি এবং হস্তান্তরের মাধ্যমে প্রকৃত উৎস আড়াল করার চেষ্টা করা হয়েছে, যা মানিলন্ডারিং অপরাধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হতে পারে। এ অবস্থায় সম্পদ স্থানান্তর রোধে ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করা জরুরি বলে উল্লেখ করা হয়।