
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেছেন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতা অভিজিৎ দিপকে। প্রায় ২৪ ঘণ্টা আটক থাকার পর আদালতের নির্দেশে মুক্তি পেয়েই তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মোদি ভারতের জন্য অস্বস্তির কারণ। তাঁর অভিযোগ, এত বড় কাপুরুষ ও জুলুমবাজ দেশটি আগে কখনো দেখেনি।
শনিবার (১০ অক্টোবর) মুম্বাই থেকে দিল্লি যাওয়ার পথে উড়োজাহাজের ভেতর থেকে তাঁকে আটক করে দিল্লি পুলিশ। পরদিন রোববার (১১ অক্টোবর) সকালে মুক্তি পাওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে মোদির সমালোচনা করেন তিনি।
আটক ও মুক্তির পর মোদিকে নিয়ে তীব্র মন্তব্য
এক্সে দেওয়া পোস্টে অভিজিৎ দিপকে লেখেন, ‘প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মোদি ভারতের জন্য অস্বস্তির কারণ। এত বড় কাপুরুষ ও জুলুমবাজ এ দেশ আগে কখনো দেখেনি।’
শনিবার দিল্লির যন্তর মন্তরে সিজেপির পূর্বঘোষিত বিক্ষোভে যোগ দিতে বেঙ্গালুরু থেকে মুম্বাই হয়ে দিল্লি যাচ্ছিলেন অভিজিৎ দিপকে, সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা। তাঁদের তিনজনকেই এয়ার ইন্ডিয়ার একটি উড়োজাহাজের ভেতর থেকে আটক করা হয়।
পরে রোববার দিল্লি ক্যান্টনমেন্ট থানায় একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করার পর শর্ত সাপেক্ষে তাঁদের মুক্তি দেওয়া হয়।
ধরপাকড়ের পরও বিক্ষোভ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা
মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে শনিবারের ধরপাকড়ের পরও আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে সিজেপি। দলটি রোববারও যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। স্থানীয় সময় বেলা দুইটায় দলটির সংবাদ সম্মেলন করার কথা রয়েছে।
যন্তর মন্তরকেন্দ্রিক বিক্ষোভ ঘিরে প্রায় সাত হাজার মানুষকে আটক করা হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে তাঁদের সবার আটকের পরিস্থিতি ও পরবর্তী অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ নেই।
আন্দোলন থেকে সরে না আসার বার্তা সিজেপির
অভিজিৎ দিপকে আটক হওয়ার পর দলের নেতৃত্বের দায়িত্ব নেওয়া অজিঙ্কা শিন্ডে জানিয়েছেন, আন্দোলন প্রত্যাহারের কোনো পরিকল্পনা তাঁদের নেই।
তিনি বলেন, রোববারও তাঁরা যন্তর মন্তরে পৌঁছানোর চেষ্টা করবেন। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত সেখানে অবস্থান চালিয়ে যাওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি।
মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিকে কেন্দ্র করে সিজেপির আন্দোলন এবং নেতাদের আটকের ঘটনা দিল্লির রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নতুন উত্তেজনা তৈরি করেছে। দলের পক্ষ থেকে আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণা এলেও কর্তৃপক্ষের পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে এখনো বিস্তারিত জানা যায়নি।