
মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে ভুয়া সনদধারীদের প্রভাব দেখে ক্ষোভে নিজের আসল মুক্তিযোদ্ধা সনদ ছিঁড়ে ফেলেছিলেন বলে জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ঢাকা-৩ আসনের সংসদ সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনীত ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, যুদ্ধশেষে এক তরুণী মুক্তিযোদ্ধার সনদ নিয়ে কলেজে ভর্তি হতে আসে, অথচ তার বাবা ছিলেন একজন কোলাবোরেটর (রাজাকার)। সেই ঘটনা দেখেই তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে নিজের সনদ নষ্ট করেন। “আমি মুক্তিযুদ্ধের বিনিময়ে কিছু পাওয়ার আশা করি না।”
নিজের রাজনৈতিক পথচলার প্রসঙ্গ তুলে ধরে গয়েশ্বর বলেন, বিএনপি প্রতিষ্ঠার সময় রমনার বটমূলে তিনি একমাত্র জীবিত সাক্ষী হিসেবে এখনো আছেন। তার ভাষায়, শহীদ জিয়া মাত্র ১৮ মিনিটের মধ্যে দলটির ঘোষণা দিয়েছিলেন। তিনি বলেন, সেই অবদানের প্রতি কৃতজ্ঞতা শুধু কথায় নয়, আদর্শ অনুসরণের মাধ্যমেই প্রকাশ করা উচিত।
জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন শুরু হওয়ার পর তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি দ্রুত এই আন্দোলনের প্রতি নৈতিক ও সর্বাত্মক সমর্থন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। তিনি উল্লেখ করেন, এটি কোনো একক দলের অর্জন নয়; বরং প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, স্কুলপড়ুয়া কিশোর-কিশোরী এবং বিএনপির তৃণমূলসহ বিভিন্ন স্তরের মানুষের সম্মিলিত ত্যাগের ফল। সংসদে উপস্থিত প্রতিনিধিদের পাশাপাশি অসংখ্য সাধারণ মানুষ ও রাজনৈতিক কর্মী ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশের জন্য সংগ্রাম করেছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।