
সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীর সাথে রবিবার (৩ মে ২০২৬) বিকেলে সচিবালয়ে তাঁর অফিসকক্ষে বাংলাদেশে নিযুক্ত নেপালের রাষ্ট্রদূত H.E. Mr. Ghanshyam Bhandari এক সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। সাক্ষাৎকালে নেপালের উপ-মিশন প্রধান Ms. Lalita Silwal রাষ্ট্রদূতের সাথে উপস্থিত ছিলেন।
সাক্ষাৎকারে তাঁরা দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান গভীর ঐতিহাসিক, দীর্ঘস্থায়ী সভ্যতা ও ধর্মীয় বন্ধনের কথা স্মরণ করেন এবং দ্বিপাক্ষিক সাংস্কৃতিক সহযোগিতা আরও বেগবান করার লক্ষ্যে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা করেন। বিশেষ করে, বর্তমানে চলমান 'সংস্কৃতি বিনিময় কর্মসূচি (CEP) ২০২২-২০২৫' এর মেয়াদ শেষ হতে চলায় এটি নবায়ন ও এর পরিধি বাড়ানোর বিষয়ে উভয়ে গুরুত্বারোপ করেন।
সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রদূত আগামী ১৫ মে ২০২৬ তারিখে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে দূতাবাস ও বাংলাদেশ-নেপাল ফ্রেন্ডশিপ সোসাইটির যৌথ উদ্যোগে আয়োজিতব্য 'নেপাল উৎসব'-এ প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার জন্য মাননীয় মন্ত্রীকে সাদর আমন্ত্রণ জানান। রাষ্ট্রদূত জানান, এই উৎসবে নেপালের পোখরা একাডেমি থেকে আগত একটি শিল্পী দল সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় অংশ নেবে এবং নেপালি খাবারের বৈচিত্র্য তুলে ধরা হবে।
সংস্কৃতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ও নেপালের মধ্যে সাংস্কৃতিক সম্পর্ক অত্যন্ত নিবিড়। দুই দেশের শিল্পকলা, ঐতিহ্য এবং সাহিত্যের আদান-প্রদান আমাদের জনগণের মধ্যে সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করে।
তিনি ডিজিটাল সংস্কৃতি, সৃজনশীল শিল্প এবং বিমূর্ত ঐতিহ্য (Intangible Heritage) অন্তর্ভুক্ত করে একটি আধুনিক ও সময়োপযোগী নতুন 'সাংস্কৃতিক বিনিময় কর্মসূচি' (CEP) প্রণয়নের ওপর জোর দেন। মন্ত্রী এ সময় বাংলা একাডেমি ও নেপাল একাডেমির মধ্যে সাহিত্যিক সহযোগিতা পুনরুজ্জীবিত করার এবং উভয় দেশের সাহিত্যকর্ম অনুবাদের বিষয়েও আগ্রহ প্রকাশ করেন।
রাষ্ট্রদূত ঘ্যানশ্যাম ভান্ডারী বাংলাদেশের উষ্ণ আতিথেয়তার প্রশংসা করে বলেন, নেপাল সবসময়ই বাংলাদেশের সাথে সাংস্কৃতিক ও কৌশলগত অংশীদারিত্বকে বিশেষ গুরুত্ব দেয়। তিনি ঢাকার 'এশীয় চারুকলা প্রদর্শনী'তে (Asian Art Biennale) নেপালের নিয়মিত অংশগ্রহণের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন এবং হেরিটেজ ট্যুরিজম বা সাংস্কৃতিক পর্যটন প্রসারে যৌথ উদ্যোগের প্রস্তাব দেন।
বৈঠকে দুই দেশের শিল্পী, গবেষক ও সাংস্কৃতিক প্রতিনিধিদের নিয়মিত সফর বিনিময় এবং যৌথ প্রদর্শনী আয়োজনের মাধ্যমে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে উভয় পক্ষ একমত পোষণ করেন।
সাক্ষাৎকালে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং নেপাল দূতাবাসের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।