
ভোটের ফল ঘোষণার পর রংপুরে উত্তপ্ত পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে, পুনরায় ভোট গণনার দাবিতে রংপুর-ঢাকা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভে নেমেছেন রংপুর-৪ আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী এমদাদুল হক ভরসার কর্মী-সমর্থকরা।
শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকেই তারা সড়কে অবস্থান নিতে শুরু করেন। পরিস্থিতি ক্রমেই তীব্র হয়ে উঠলে বেলা ১২টার দিকে বিক্ষোভকারীরা রংপুর-ঢাকা মহাসড়ক অবরোধ করেন। এতে সড়কের দু’পাশে কয়েক কিলোমিটারজুড়ে যানজটের সৃষ্টি হয়। বেলা ৩টা পর্যন্ত অবরোধ কর্মসূচি চলে।
অবরোধ চলাকালে বিক্ষোভকারীদের ‘আখতার ভোট চোর, ভোট চুরি মানবো না, মানি না’সহ বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেখা যায়। পরে কাউনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পাপিয়া সুলতানা ঘটনাস্থলে গিয়ে ভোট পুনর্গণনার আশ্বাস দিলে অবরোধ তুলে নেন তারা।
বিএনপি প্রার্থী এমদাদুল হক ভরসা অভিযোগ করে বলেন, “জনগণ আমাকে ভোট দিয়েছে। কিন্তু প্রশাসন ইঞ্জিনিয়ারিং করে ফলাফল পরিবর্তন করে দিয়েছে। জনগণের দাবি হলো ভোট পুনর্গণনার করা হোক। পুনর্গণনার যা ফলাফল আসবে ভোটাররা তা মেনে নেবে।”
তিনি আরও বলেন, “আমার কর্মী-সমর্থকরা আন্দোলন করলে আইনের কথা বলা হচ্ছে। অথচ ডিসি সাহেব যখন নির্বাচনী দায়িত্বে থেকে ফলাফল পরিবর্তন করলো; তখন তারা কোনো আইন-কানুন মানে নাই। আমার সন্দেহ হচ্ছে ডিসি সাহেব ভোট পুনর্গণনার করতে কালক্ষেপন করে পুনরায় ভোট ইঞ্জিনিয়ারিং করবে।”
রংপুর-৪ আসনে বেসরকারিভাবে বিজয়ী ঘোষিত আখতার হোসেন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “হারাগাছ এলাকায় এখন ভরসার ভাড়া করা লোকেরা যা করছে তা নির্বাচনী আচরণবিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। প্রশাসনের কর্তারা আলোচনার মাধ্যমে আইনগতভাবে এই সমস্যার সমাধান করুন। সময়ক্ষেপন করার সুযোগ নেই। যেসব মানুষদের ভাড়া করে আনা হয়েছে; তারা খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ। ভরসার নেতাকর্মীরা তাদেরকে লোভ দেখিয়ে, ভয় দেখিয়ে বিভ্রান্ত করছে। এই আইন লঙ্ঘনের পরিস্থিতির দায়ভার বিএনপির হাইকমান্ডকে নিতে হবে।”
এদিকে একই দাবিতে শনিবার সকালে পীরগাছা বাজার এলাকায় উপজেলা বিএনপির সভাপতি আমিনুল ইসলাম রাঙ্গার নেতৃত্বে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে ভোট পুনর্গণনার আবেদন জমা দেওয়া হয়।
অন্যদিকে রংপুর-৬ (পীরগঞ্জ) আসনেও একই ইস্যুতে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। শুক্রবার রাতে বিএনপি প্রার্থী সাইফুল ইসলামের কর্মী-সমর্থকরা বিক্ষোভ করেন। উপজেলা প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাইফুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, “প্রশাসনের যোগসাজশে ধানের শীষের অনেক ব্যালট বাতিল করা হয়েছে। অবিলম্বে ভোট পুনর্গণনা করা হলে জনগণের রায় প্রতিষ্ঠিত হবে।”