
রক্ত মানবদেহের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি যোজক কলা। শরীরের বিভিন্ন অংশে অক্সিজেন ও পুষ্টি উপাদান পৌঁছে দেওয়া, রোগ প্রতিরোধ এবং রক্তক্ষরণ বন্ধে রক্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। একজন সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের শরীরে সাধারণত প্রায় ৫ থেকে ৬ লিটার রক্ত থাকে।
রক্তের প্রধান দুটি অংশ হলো রক্তরস বা প্লাজমা এবং রক্তকণিকা। প্লাজমার বড় অংশ পানি। এতে গ্লুকোজ, অ্যামাইনো অ্যাসিড, খনিজ লবণ, হরমোন, ভিটামিন, অ্যান্টিবডি ও বিভিন্ন বর্জ্য পদার্থ থাকে। রক্তকণিকার মধ্যে রয়েছে লোহিত রক্তকণিকা, শ্বেত রক্তকণিকা ও অণুচক্রিকা। লোহিত রক্তকণিকা হিমোগ্লোবিনের মাধ্যমে অক্সিজেন পরিবহন করে, শ্বেত রক্তকণিকা রোগজীবাণুর বিরুদ্ধে লড়াই করে এবং অণুচক্রিকা রক্ত জমাট বাঁধতে সহায়তা করে।
সাধারণভাবে মানুষের রক্তের গ্রুপ হলো A+, A-, B+, B-, AB+, AB-, O+ ও O-। রক্ত সঞ্চালনের ক্ষেত্রে গ্রুপের সামঞ্জস্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
A+ গ্রুপের রক্ত A+ ও AB+ ব্যক্তিকে দেওয়া যায় এবং A+, A-, O+ ও O- থেকে নেওয়া যায়। A- রক্ত A+, A-, AB+ ও AB- গ্রুপকে দেওয়া যায় এবং A- ও O- থেকে নেওয়া যায়।
B+ রক্ত B+ ও AB+ গ্রুপকে দেওয়া যায় এবং B+, B-, O+ ও O- থেকে নেওয়া যায়। B- রক্ত B+, B-, AB+ ও AB- গ্রুপকে দেওয়া যায় এবং B- ও O- থেকে নেওয়া যায়।
AB+ রক্ত শুধু AB+ গ্রুপকে দেওয়া যায়। তবে AB+ ব্যক্তি সব রক্তের গ্রুপ থেকে লোহিত রক্তকণিকা নিতে পারেন। AB- রক্ত AB- ও AB+ গ্রুপকে দেওয়া যায় এবং A-, B-, AB- ও O- থেকে নেওয়া যায়।
O+ রক্ত O+, A+, B+ ও AB+ গ্রুপকে দেওয়া যায় এবং O+ ও O- থেকে নেওয়া যায়। আর O- রক্ত সব ABO/Rh-পজিটিভ ও নেগেটিভ গ্রুপে লোহিত রক্তকণিকা হিসেবে দেওয়া যেতে পারে। এ কারণে O-কে সাধারণত সর্বজনীন লোহিত রক্তকণিকা দাতা বলা হয়। অন্যদিকে AB+ ব্যক্তিকে সর্বজনীন গ্রহীতা বলা হয়।
তবে বাস্তবে রক্ত দেওয়ার আগে শুধু গ্রুপের ওপর নির্ভর করা যায় না। নিরাপদ রক্ত সঞ্চালনের জন্য রক্তের গ্রুপ নির্ণয়, ক্রসম্যাচিং এবং প্রয়োজনীয় সংক্রমণ পরীক্ষা করা জরুরি।
সুস্থ ও যোগ্য প্রাপ্তবয়স্করা রক্ত দিতে পারেন। তবে বয়স, ওজন, হিমোগ্লোবিনের মাত্রা, শারীরিক অবস্থা এবং সর্বশেষ রক্তদানের সময় বিবেচনা করা হয়। অসুস্থতা, রক্তবাহিত সংক্রমণ, সাম্প্রতিক বড় অস্ত্রোপচারসহ বিভিন্ন কারণে কেউ সাময়িক বা স্থায়ীভাবে রক্তদানের অযোগ্য হতে পারেন। গর্ভাবস্থায় রক্তদান করা উচিত নয়।
রক্তদানের আগে খালি পেটে না থাকা, পর্যাপ্ত পানি পান করা এবং অনুমোদিত ও পরিচিত রক্তকেন্দ্রে রক্ত দেওয়া উচিত। ব্যবহৃত সরঞ্জাম ও সূচ জীবাণুমুক্ত কি না, সেটিও নিশ্চিত করা জরুরি। রক্তদানের পর পর্যাপ্ত পানি পান ও কিছুক্ষণ বিশ্রাম নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জরুরি রোগী, দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তি, অস্ত্রোপচার ও প্রসূতি রোগীর চিকিৎসায় নিরাপদ রক্তের প্রয়োজন হয়। তাই সুস্থ মানুষের স্বেচ্ছায় রক্তদান অন্যের জীবন বাঁচাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।