
রাজশাহীতে কীটনাশক পান করে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। মৃত্যুর পর হাসপাতালে রাখা লাশ থেকে স্বর্ণালঙ্কার খুলে নিয়ে স্বামীসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজন পালিয়ে গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
মঙ্গলবার (৫ মে) মধ্যরাতে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাসিনা খাতুন (২১) নামের ওই গৃহবধূর মৃত্যু হয়। এর পর থেকেই তার স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন পলাতক রয়েছে।
নিহতের স্বজনদের দাবি, হাসিনা দুই মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। হাসপাতালে তার সঙ্গে স্বামী মো. রাতুল, বোন লাইলা খাতুন এবং আরও দুইজন উপস্থিত ছিলেন। মৃত্যুর পর লাশ থেকে স্বর্ণালঙ্কার খুলে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তারা।
হাসিনার স্বামী রাতুলের বাড়ি গোদাগাড়ী উপজেলার রাজাবাড়ি মোল্লাপাড়া গ্রামে। তিনি স্থানীয়ভাবে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত এবং মাদক সেবনের অভ্যাস রয়েছে বলেও পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে। অন্যদিকে হাসিনা নওগাঁর সাপাহার উপজেলার আন্দারদিঘি গ্রামের বাসিন্দা হাসান আলীর মেয়ে। প্রায় সাত মাস আগে তাদের বিয়ে হয়।
পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, বিয়ের পর থেকেই হাসিনার ওপর যৌতুকের চাপ দেওয়া হচ্ছিল। এক লাখ টাকা এনে দেওয়ার জন্য তাকে নিয়মিত চাপ দেওয়া হতো। টাকা না পেয়ে নির্যাতনের শিকার হয়ে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন তিনি।
পরিবার জানায়, গত সোমবার (৪ মে) মধ্যরাতে হাসিনা কীটনাশক পান করেন। প্রথমে তাকে স্থানীয় একটি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়, পরে অবস্থার অবনতি হলে রামেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার রাতে তার মৃত্যু হয়।
মৃত্যুর পরপরই হাসপাতালে থাকা অবস্থায় তার গলার স্বর্ণালঙ্কার খুলে নেওয়া হয় এবং পরে স্বামীসহ সবাই হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যায় বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় নিহতের বোন থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
গোদাগাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, ঘটনার পর থেকেই স্বামীসহ শ্বশুরবাড়ির সবাই পলাতক। লাশ রামেক হাসপাতালের হিমঘরে রাখা হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।