
বাগেরহাটের ফকিরহাটে রামপাল তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে ক্রয়কৃত প্রায় সাড়ে ১৩ লাখ টাকার অ্যালুমিনিয়াম বোঝাই একটি ট্রাক ছিনতাইয়ের দুঃসাহসিক ঘটনা ঘটেছে। মালামাল উদ্ধারে যাওয়া পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলার চেষ্টা চালিয়েও শেষরক্ষা হয়নি ডাকাত দলের; চিরুনি অভিযানের মুখে ট্রাকসহ মালামাল উদ্ধারের পাশাপাশি গ্রেফতার হয়েছে চক্রের দুই সদস্য।
ঘটনার সূত্রপাত ও মধ্যরাতে হামলা
রামপাল এলাকার তিন ব্যবসায়ী—মনিরুল ইসলাম, কামরুল শেখ ও শামিম হাসান যৌথভাবে বিদ্যুৎকেন্দ্রের পরিত্যক্ত অ্যালুমিনিয়াম ক্রয় করেন। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ভাড়া করা একটি বিআরটিসি ট্রাকে প্রায় ১৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা মূল্যের এই মালামাল নিয়ে তারা চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা হন। পথে রামপাল জিরো পয়েন্ট ও সোনাতোনিয়া এলাকায় স্থানীয়রা মালামাল যাচাইয়ের জন্য একবার ট্রাকটি থামালেও বৈধ কাগজ দেখে ছেড়ে দেয়।
রাত আনুমানিক ১টার দিকে ট্রাকটি ফকিরহাটের সুকদাড়া এলাকায় পৌঁছালে ওত পেতে থাকা ১৫-১৬ জনের একটি সশস্ত্র ডাকাতদল গতিরোধ করে। চালক ও সঙ্গে থাকা ব্যক্তিদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে তারা পুরো ট্রাকসহ মালামাল ছিনিয়ে নিয়ে চম্পট দেয়।
পুলিশকে ধাওয়া ও শ্বাসরুদ্ধকর উদ্ধার অভিযান
ছিনতাইয়ের খবর পাওয়ামাত্রই ফকিরহাট মডেল থানা পুলিশ অভিযানে নামে। অভিযান চলাকালে একপর্যায়ে অপরাধীরা পুলিশ সদস্যদের ওপর চড়াও হয় এবং তাদের ধাওয়া দেওয়ার চেষ্টা করে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে অতিরিক্ত পুলিশ ফোর্স মোতায়েন করে অভিযান জোরদার করা হয়।
পরবর্তীতে শুক্রবার (৮ মে) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে উপজেলার মূলঘর এলাকার একটি পরিত্যক্ত ইটভাটা থেকে লুণ্ঠিত ট্রাক ও অ্যালুমিনিয়াম উদ্ধার করতে সক্ষম হয় পুলিশ। ঘটনাস্থল থেকে সরাসরি জড়িত দুইজনকে হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন:
মো. জয়নাল আবেদিন (৩৮), পিতা: অজ্ঞাত, সাং- পাগলা উত্তরপাড়া।
মো. জুয়েল শিকদার (৩২), পিতা: অজ্ঞাত, সাং- নলধা।
আইনি পদক্ষেপ ও বর্তমান অবস্থা
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মনিরুল ইসলাম বাদী হয়ে ৮ জনের নাম উল্লেখসহ আরও ১৬ জন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ব্যবসায়ীরা জানান, মালামাল উদ্ধারের সময় ডাকাতরা পুলিশের ওপর যে হামলার চেষ্টা চালিয়েছিল, তা অত্যন্ত ভয়াবহ ছিল।
ফকিরহাট মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন:
“ডাকাতির খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে ট্রাক ও মালামাল উদ্ধার করেছে। এ ঘটনায় দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”
পুলিশ জানিয়েছে, মামলার নথিপত্র প্রস্তুত করা হচ্ছে এবং গ্রেফতারকৃতদের বাগেরহাট আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এই ঘটনার নেপথ্যে বড় কোনো সিন্ডিকেট রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে প্রশাসন।