
মুক্তির আগেই আলোচনার কেন্দ্রে রণবীর কাপুর ও যশ অভিনীত বহুল প্রতীক্ষিত সিনেমা ‘রামায়ণ’। বিপুল অর্থের বিনিয়োগ, জনপ্রিয় তারকাদের উপস্থিতি এবং বিশাল আয়োজনের কারণে ছবিটি নিয়ে দর্শকদের আগ্রহ তুঙ্গে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে বিশেষ প্রদর্শনীর পর সমালোচকদের কাছ থেকে মিশ্র প্রতিক্রিয়া পেয়েছে সিনেমাটি।
কেউ ছবিটির দৃশ্যায়ন, নির্মাণশৈলী ও কারিগরি আয়োজনের প্রশংসা করছেন। আবার কারও অভিযোগ, গল্প বলার ধরনে দুর্বলতা, অতিরিক্ত দৈর্ঘ্য এবং অভিনয়ের সীমাবদ্ধতা রয়েছে। ফলে একদল সমালোচকের কাছে এটি মহাকাব্যিক নির্মাণ হলেও অন্যদের চোখে অতিরিক্ত জাঁকজমকপূর্ণ একটি মাঝারি মানের চলচ্চিত্র।
আন্তর্জাতিক সমালোচনায় মিশ্র মূল্যায়ন
ছবিটির ভিজ্যুয়াল ইফেক্টস, বিশাল সেট এবং পোশাক পরিকল্পনা প্রশংসা পেয়েছে বিভিন্ন পর্যালোচনায়। তবে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র সমালোচকদের মূল্যায়নে এখনো সর্বসম্মত ইতিবাচক অবস্থান তৈরি হয়নি।
মার্কিন চলচ্চিত্র সমালোচক ব্র্যান্ডন জাকারি ছবিটিকে ১০-এর মধ্যে ৭ নম্বর দিয়েছেন। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্রবিষয়ক সাময়িকী ইন্ডিওয়্যার ‘রামায়ণ’কে ‘বি’ গ্রেডে রেখেছে। অর্থাৎ নির্মাণের কিছু দিক প্রশংসিত হলেও সামগ্রিক বিচারে ছবিটিকে সর্বোচ্চ মানের চলচ্চিত্র হিসেবে বিবেচনা করা হয়নি।
প্রায় তিন ঘণ্টার এই সিনেমার দৈর্ঘ্য নিয়েও আপত্তি তুলেছেন কয়েকজন পর্যালোচক। এনওয়াইসি মুভি গুরুর এক পর্যালোচনায় ছবিটিকে দীর্ঘ, অগোছালো, ক্লান্তিকর ও আবেগের দিক থেকে দুর্বল হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। সেখানে অভিনয়ের মান নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়। প্রতিষ্ঠানটির সমালোচক অ্যাভি অফারের মতে, অতিরিক্ত জাঁকজমক ছবিটির দুর্বলতাগুলো আড়াল করতে পারেনি।
অন্যদিকে নেক্সট বেস্ট পিকচারের সমালোচক জিওভানি লাগোর অভিমত, ‘গেম অব থ্রোনস’-এর মতো ধারাবাহিক হিসেবে ‘রামায়ণ’ নির্মিত হলে এর বিস্তৃত কাহিনি আরও ভালোভাবে তুলে ধরা সম্ভব হতো।
তরণ আদর্শের চোখে অসাধারণ নির্মাণ
আন্তর্জাতিক সমালোচকদের মিশ্র প্রতিক্রিয়ার বিপরীতে ভারতীয় চলচ্চিত্র সমালোচক তরণ আদর্শ ছবিটি নিয়ে অত্যন্ত ইতিবাচক মূল্যায়ন দিয়েছেন। তাঁর পর্যালোচনায় ‘রামায়ণ’কে অসাধারণ ও আকর্ষণীয় চলচ্চিত্র হিসেবে উল্লেখ করে ৫-এর মধ্যে ৫ নম্বর দেওয়া হয়েছে।
তরণ আদর্শের মতে, ভারতীয় চলচ্চিত্রে এমন ব্যাপক আয়োজন আগে খুব একটা দেখা যায়নি। সিনেমাটির দৃশ্যায়ন, আবেগঘন উপস্থাপনা, সংগীত এবং সামগ্রিক নির্মাণের প্রশংসা করেছেন তিনি। বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন পরিচালক নিতেশ তিওয়ারির চিত্রনাট্যের কথা।
অভিনয়শিল্পীদের মধ্যে রণবীর কাপুর, সাই পল্লবী, যশ ও রবি দুবের কাজ তাঁর নজর কেড়েছে। পাশাপাশি এ আর রহমান ও হ্যান্স জিমারের আবহসংগীত এবং ডিএনইজির ভিজ্যুয়াল ইফেক্টসেরও প্রশংসা করেছেন তিনি।
তরণ আদর্শের ভাষায়, ‘রামায়ণ’ কেবল একটি চলচ্চিত্র নয়, বরং দর্শকদের জন্য একটি বিশেষ অভিজ্ঞতা।
তবে তাঁর দেওয়া সর্বোচ্চ নম্বর নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিতর্কও তৈরি হয়েছে। নেটিজেনদের একাংশ এই ইতিবাচক পর্যালোচনাকে অর্থের বিনিময়ে দেওয়া প্রচারণামূলক মূল্যায়ন বলে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।
দুই পর্বে ৪ হাজার কোটি রুপির প্রকল্প
ব্যয়ের দিক থেকেও ভারতীয় চলচ্চিত্রের ইতিহাসে বড় প্রকল্প হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে যাচ্ছে ‘রামায়ণ’। সিনেমাটির অভিনেতা ও সহপ্রযোজক যশ জানিয়েছেন, দুই পর্ব মিলিয়ে নির্মাণ, মুক্তি, প্রচার এবং পরবর্তী কারিগরি কাজসহ পুরো প্রকল্পের বাজেট দাঁড়াবে প্রায় ৪ হাজার কোটি রুপি।
ছবিতে রামের চরিত্রে অভিনয় করেছেন রণবীর কাপুর। সীতার ভূমিকায় রয়েছেন সাই পল্লবী। রাবণ চরিত্রে যশ, লক্ষ্মণের ভূমিকায় রবি দুবে এবং হনুমানের চরিত্রে দেখা যাবে সানি দেওলকে।
নির্মাতাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী ৫ নভেম্বর বিশ্বব্যাপী মুক্তি পাওয়ার কথা সিনেমাটির প্রথম পর্ব। দ্বিতীয় পর্ব মুক্তির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২০২৭ সালের দীপাবলি উৎসবকে ঘিরে।
ভারতে ছবিটি হিন্দি, তামিল, তেলুগু, কন্নড় ও মালয়ালম ভাষায় মুক্তি পাবে। পাশাপাশি বড় পর্দায় দর্শকদের ভিন্ন অভিজ্ঞতা দিতে এর আইম্যাক্স সংস্করণও প্রদর্শনের পরিকল্পনা রয়েছে।