
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে—আলী লারিজানি হত্যার প্রতিশোধ নিতে ইরান যেন মরিয়া হয়ে উঠেছে। আজ ভোর থেকে ইসরায়েলে বিধ্বংসী সব ক্ষেপণাস্ত্র ছুঁড়েছে দেশটি। ইসরায়েলের ভেতরে বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালানোর দাবিও করেছে ইরান।
বুধবার (১৮ মার্চ) ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) এক বিবৃতিতে জানায়, ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সেক্রেটারি আলী লারিজানি এবং বাসিজ ফোর্সের কমান্ডার গোলামরেজা সোলায়মানিকে হত্যার জবাব হিসেবেই এই ‘প্রতিশোধমূলক’ হামলা পরিচালিত হয়েছে। অভিযানে অন্তত চার ধরনের উন্নত ও শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে বলে জানানো হয়।
তেহরানের দাবি, এই আকস্মিক হামলায় ইসরায়েলের কেন্দ্রীয় অঞ্চলে অবস্থিত ১০০টিরও বেশি সামরিক ও নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট স্থাপনায় সফলভাবে আঘাত হানা হয়েছে। লারিজানি হত্যার পর এই হামলা দুই দেশের চলমান সংঘাতকে আরও তীব্র ও বিপজ্জনক পর্যায়ে নিয়ে গেছে।
ফারস নিউজ এজেন্সিতে প্রকাশিত আইআরজিসির বিবৃতিতে বলা হয়, ইসরায়েলের ‘বহুস্তর বিশিষ্ট এবং অতি-উন্নত’ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ ব্যর্থ করে দিয়ে এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম হয়েছে।
এই অভিযানে খোররামশাহর-৪, কদর, ইমাদ এবং খায়বার শেকান—এই চার ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়। এর মধ্যে খোররামশাহর-৪ থেকে ছোড়া অন্তত ৮০টি সাব-মিউনিশন সরাসরি তেল আবিবে আঘাত হানে। ইরানওয়াচের তথ্য অনুযায়ী, এসব ক্ষেপণাস্ত্র ১ হাজার ২০০ থেকে ৩ হাজার কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তু নির্ভুলভাবে আঘাত করার সক্ষমতা রাখে, যা মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ইরানের সামরিক সক্ষমতার ইঙ্গিত দেয়।
এই হামলার পর ইসরায়েলের রাজধানীর আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। দেশটির জরুরি পরিষেবা বিভাগ জানিয়েছে, তেল আবিব জেলার রামাত গানে ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়ে অন্তত একজন পুরুষ ও একজন নারী নিহত হয়েছেন।
যদিও ইসরায়েল দাবি করেছে, তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কিছু ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে পেরেছে, তবে আইআরজিসি বলছে, তাদের হামলা ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় বড় ধরনের ভাঙন ধরিয়েছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও ছবিতে আবাসিক এলাকায় আগুন ও ধ্বংসযজ্ঞের দৃশ্য দেখা গেছে।
এদিকে চলমান এই সংঘাতের মধ্যে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ পরমাণু অস্ত্র নিয়ে নতুন পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করেছেন, যা বৈশ্বিক পর্যায়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া ইরান বনাম ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র জোটের সংঘাত এখন আরও জটিল ও বিস্তৃত রূপ নিচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, আলী লারিজানি ও তাঁর সহযোগীদের হত্যার পর ইরান যে পাল্টা প্রতিক্রিয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছিল, এই হামলা সেই প্রতিশোধের প্রথম ধাপ। পরিস্থিতি বিবেচনায় সামনের দিনগুলোতে এ সংঘাত আরও বড় আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সূত্র: আল জাজিরা