
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চলমান চীন সফরের মধ্যেই ভারতের রাজধানী দিল্লিতে মুখোমুখি হয়েছেন ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল এবং চীনের শীর্ষ কূটনীতিক ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই। ব্রিকস জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের বৈঠকের ফাঁকে অনুষ্ঠিত এই বৈঠককে ‘গঠনমূলক ও ভবিষ্যতমুখী’ বলে বর্ণনা করেছে ভারত।
সোমবার (২২ জুন) দিল্লিতে অনুষ্ঠিত বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে সাম্প্রতিক সম্পর্কোন্নয়ন, আঞ্চলিক পরিস্থিতি এবং দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা জোরদারের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ব্রিকস জোটের বর্তমান চেয়ারম্যান হিসেবে ভারত ২৩ ও ২৪ জুন দিল্লিতে সদস্য দেশগুলোর জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের বৈঠকের আয়োজন করেছে। ওই বৈঠকের সাইডলাইনে অজিত দোভাল ও ওয়াং ইর মধ্যে দ্বিপক্ষীয় আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠক সম্পর্কে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, দুই নেতা সাম্প্রতিক সময়ে ভারত-চীন সম্পর্কের অগ্রগতি পর্যালোচনা করেছেন এবং উভয় পক্ষই সম্পর্ক ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হওয়ার পথে এগোচ্ছে বলে মত প্রকাশ করেছেন।
২০২০ সালে সীমান্ত সংঘর্ষের জেরে ভারত ও চীনের মধ্যে যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল, তা কয়েক বছর ধরে দুই দেশের সম্পর্ককে প্রভাবিত করে। তবে ২০২৪ সাল থেকে সম্পর্ক উন্নয়নের লক্ষণ দেখা দিতে শুরু করে এবং সাম্প্রতিক এই বৈঠক সেই প্রক্রিয়াকে আরও এগিয়ে নেওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত বিবরণ অনুযায়ী, ওয়াং ই বৈঠকে বলেন, দুই দেশের উচিত একে অপরের মৌলিক স্বার্থকে সম্মান করা এবং সংবেদনশীল বিষয়গুলো যথাযথভাবে পরিচালনা করা। তিনি ভারত-চীন বিভিন্ন দ্বিপক্ষীয় সংলাপব্যবস্থা পুনরায় চালুর আহ্বান জানান।
এ ছাড়া বাণিজ্য, অর্থনীতি, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সহযোগিতা এবং গণমাধ্যম খাতে পারস্পরিক বিনিময় বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন চীনের এই শীর্ষ কূটনীতিক।
ওয়াং ই আরও বলেন, বহুমেরুকেন্দ্রিক বিশ্বব্যবস্থা গড়ে তুলতে ব্রিকসের আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করা উচিত।
উল্লেখ্য, ব্রিকস জোটের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য দেশ হলো ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন ও দক্ষিণ আফ্রিকা। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আরও কয়েকটি দেশ এই জোটে যুক্ত হয়েছে।
সূত্র: রয়টার্স