
সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থানরত বা ছুটিতে দেশের বাইরে থাকা অনেক বাংলাদেশির ভিসা আকস্মিকভাবে বাতিল হওয়ার ঘটনায় উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। এ পরিস্থিতিতে প্রবাসীদের আশ্বস্ত করে বিষয়টি নিয়ে কাজ করার কথা জানিয়েছে আবু ধাবির বাংলাদেশ দূতাবাস।
সোমবার (২৭ জুলাই) এক বার্তায় দূতাবাস জানায়, ছুটি কিংবা অন্য কোনো কারণে আমিরাতের বাইরে অবস্থান করা অনেক বাংলাদেশির ভিসা হঠাৎ করে কোনো কারণ উল্লেখ ছাড়াই বাতিল হয়ে যাচ্ছে। এতে বৈধ রেসিডেন্সি ভিসাধারী বাংলাদেশিদের মধ্যে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা তৈরি হয়েছে।
দূতাবাস জানায়, “আপনাদের আশ্বস্ত করতে চাই যে, বাংলাদেশ দূতাবাস এই বিষয়ে ইতোমধ্যেই কাজ করছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের সংশ্লিষ্ট দফতরে কূটনৈতিক চ্যানেলে যোগাযোগের মাধ্যমে এ বিষয়ে সঠিক তথ্য ও দিকনির্দেশনা পাবার চেষ্টা আমরা অব্যাহত রেখেছি। এটি কি কোনও টেকনিক্যাল ত্রুটি, অথবা বিশেষ কোনও কারণে ঘটছে কিনা— সেটি জানার ও বোঝার জন্য আমরা প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছি।”
এতে আরও বলা হয়, “আমরা আপনাদেরকে আরও আশ্বস্ত করতে চাই যে, বাংলাদেশ সরকারের ঊর্ধতন পর্যায়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সকলে এই বিষয়ে অবগত ও নিয়মিত খোঁজ-খবর রাখছেন।” দূতাবাস জানিয়েছে, নির্ভুল ও নিশ্চিত তথ্য পাওয়া গেলে সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে তা দ্রুত প্রবাসীদের জানানো হবে।
একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভ্রান্তিকর তথ্য সম্পর্কে সতর্ক করেছে দূতাবাস। বার্তায় বলা হয়, “বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাংলাদেশ সরকারের লোগো, সরকারি প্রতীক ও বাংলাদেশের পতাকা, দূতাবাসের ইমেইল আইডি ব্যবহার করে বিভিন্নজন কিছু অসত্য, অসম্পূর্ণ তথ্য ও গুজব ছড়াচ্ছেন; অনেকেই আবার তা না বুঝে শেয়ার দিচ্ছেন। এসব বিষয় থেকে দূরে থাকুন। সচেতন ও দায়িত্বশীল প্রবাসী হিসেবে, বাংলাদেশ ও আমিরাতের সকল ধরণের আইন-কানুন মেনে চলুন ও একমাত্র অফিশিয়াল সূত্র থেকে পাওয়া তথ্যের ওপর আস্থা রাখুন।”
উল্লেখ্য, কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ছাড়াই সংযুক্ত আরব আমিরাতে কর্মরত বাংলাদেশিদের অনেকের ভিসা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম বড় শ্রমবাজারে কর্মরত লাখো বাংলাদেশি প্রবাসীর মধ্যে উৎকণ্ঠা তৈরি হয়েছে। ছুটিতে দেশে বা অন্য কোথাও অবস্থানরত অনেক প্রবাসী কর্মস্থলে ফিরতে গিয়ে বিমানবন্দরে জানতে পারছেন, তাদের ভিসা আর কার্যকর নেই। প্রবাসীদের দাবি, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কাগজপত্র ঠিক থাকা সত্ত্বেও অনেকের ভিসা বাতিল হয়ে যাচ্ছে।