
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের প্রভাবে সৃষ্ট বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপ সামাল দিতে বড় ধরনের ব্যয় সংকোচনের পথে হাঁটছে সরকার। সরকারি খরচ কমাতে ৯টি খাতে কঠোর নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।
সম্প্রতি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জারি করা এক পরিপত্রে এসব নির্দেশনা জানিয়ে তা সব সচিব, বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হয়েছে।
এর আগে গত ২ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভা বৈঠকে সরকারি পরিচালন ব্যয় কমানোর বিষয়ে বেশ কিছু সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সেই সিদ্ধান্তগুলোর ভিত্তিতেই আনুষ্ঠানিকভাবে এই পরিপত্র জারি করা হয়েছে।
পরিপত্রে বলা হয়েছে, পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত ব্যয় কমানোর লক্ষ্যে নির্ধারিত নির্দেশনাগুলো কার্যকর থাকবে।
নির্দেশনাগুলোর মধ্যে রয়েছে—সরকারি যানবাহনে জ্বালানি ব্যবহারে মাসিক বরাদ্দ থেকে ৩০ শতাংশ কাটছাঁট করা। একই সঙ্গে সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য গাড়ি কেনায় সুদমুক্ত ঋণ প্রদান এবং সরকারি অর্থায়নে বিদেশে প্রশিক্ষণ সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা হয়েছে।
এছাড়া প্রশিক্ষণ ব্যয় ছাড়া অভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষণ খরচ ৫০ শতাংশ কমাতে হবে। সভা-সেমিনারে আপ্যায়ন ব্যয় অর্ধেকে নামিয়ে আনার পাশাপাশি সেমিনার বা সম্মেলন ব্যয় ২০ শতাংশ হ্রাসের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ভ্রমণ ব্যয় ৩০ শতাংশ কমানোর পাশাপাশি সরকারি খাতে নতুন করে গাড়ি, জলযান, উড়োজাহাজ ও কম্পিউটার কেনা সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা হয়েছে।
সরকারি অফিসগুলোতে জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও গ্যাস ব্যবহারে ৩০ শতাংশ সাশ্রয় নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। আবাসিক ভবনের সৌন্দর্যবর্ধন খরচ ২০ শতাংশ এবং অনাবাসিক ভবনের ক্ষেত্রে ৫০ শতাংশ কমানোর নির্দেশ রয়েছে।
এছাড়া ভূমি অধিগ্রহণে সরকারি ব্যয় পুরোপুরি বন্ধ রাখার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
সরকার মনে করছে, এই ব্যয় সংকোচন নীতির মাধ্যমে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপ মোকাবিলা এবং সরকারি ব্যয় ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা আনা সম্ভব হবে।