
বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফের মরদেহে কোনো আঘাতের চিহ্ন পায়নি পুলিশ। তবে সুরতহাল প্রতিবেদনে তাঁর নাক দিয়ে রক্ত বের হওয়ার তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকালে গাজীপুরের টঙ্গী নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) মুস্তাফিজুর রহমান তাহসিফ সৌরির মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেন। সাক্ষীদের উপস্থিতিতে তাঁদের দেখানো মতে মরদেহের বাহ্যিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করা হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বুধবার বিকেল পৌনে ৬টার দিকে তুরাগ নদের রাজাবাড়ী ঘাটের পাশ থেকে ভাসমান অবস্থায় তাহসিফের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
সুরতহাল প্রতিবেদনের বর্ণনায় বলা হয়েছে, মৃত ব্যক্তির উচ্চতা আনুমানিক ৫ ফুট ৭ ইঞ্চি। মাথার চুল কালো, মুখে ছোট ছোট কালো দাড়ি ও গোঁফ ছিল। তাঁর চোখ ও মুখ বন্ধ ছিল। নাক দিয়ে রক্ত বের হতে দেখা যায়। দুই হাত মাথার সামনের দিকে বাঁকানো ও মুষ্টিবদ্ধ অবস্থায় ছিল। পেটও ফোলা ছিল।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বুক, পেট, পিঠ, দুই পা ও যৌনাঙ্গে দৃশ্যমান কোনো অস্বাভাবিকতা উল্লেখ করা হয়নি। শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্নও পাওয়া যায়নি। উদ্ধারের সময় তাঁর পরনে ছিল কালো রঙের ফুলহাতা কাবলি শার্ট ও সাদা ট্রাউজার।
নৌ-পুলিশের তাৎক্ষণিক প্রতিবেদনেও বলা হয়, তাহসিফের হাতে একটি ঘড়ি ও পকেটে একটি আইফোন পাওয়া যায়। ওই ফোনের মাধ্যমে তাঁর পরিচয় শনাক্ত করা হয়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
২৮ বছর বয়সী তাহসিফ উত্তরার ১৮ নম্বর সেক্টরে থাকতেন। তাঁর বাড়ি খুলনার সোনাডাঙ্গায়।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কুর্মিটোলা বিমানবন্দর থেকে উড়োজাহাজে দেশত্যাগের যে ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছিল, সেটি তাহসিফ ধারণ করেছিলেন বলে আলোচনা রয়েছে।
গত জুলাইয়ে একটি পডকাস্টে তাঁকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, ওই ভিডিও ধারণের কারণে বিমানবাহিনী থেকে তাঁর চাকরি চলে গিয়েছিল কি না। জবাবে তাহসিফ বলেছিলেন, ‘হতে পারে।’