
চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলায় সার বিক্রির ডিলার নিয়োগের জন্য সুপারিশ করা তালিকায় নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের এক নেতার নাম থাকাকে কেন্দ্র করে এলাকায় বিতর্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তালিকাটি ছড়িয়ে পড়ার পর সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা।
উপজেলায় ১৮ জন সার ডিলার নিয়োগের লক্ষ্যে উপজেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটি জেলা কমিটির কাছে একটি প্রস্তাবিত তালিকা পাঠায়। পটিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারহানুর রহমান কমিটির সভাপতি এবং উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হাবিবুল্লাহ সদস্য সচিবের দায়িত্বে রয়েছেন।
দক্ষিণ ভূর্ষিতে ডিলার হিসেবে ছাত্রলীগ নেতার নাম
সম্প্রতি সুপারিশের জন্য পাঠানো ১৮ জনের নামের তালিকাটি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি সামনে আসে। তালিকায় দক্ষিণ ভূর্ষি ইউনিয়নের সার ডিলার হিসেবে তানভীর উদ্দিন সেজানের নাম রয়েছে। তিনি পটিয়া উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক এবং পরবর্তী আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ছিলেন। তাঁর নাম তালিকায় থাকায় স্থানীয় পর্যায়ে সমালোচনা শুরু হয়।
এ নিয়ে পটিয়া পৌরসভা ছাত্রদলের নেতা মোহাম্মদ রেজাউল ইসলাম রাজু ফেসবুকে তালিকাটি প্রকাশ করে ক্ষোভ জানান। পোস্টে তিনি লেখেন, “বাহ কী চমৎকার! কিভাবে একজন পটিয়া উপজেলা ছাত্রলীগ নেতা তানভীর উদ্দিন ইউনিয়ন পর্যায়ের সারের ডিলার পায়, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে সেই প্রশ্ন রাখলাম। আর আমি বা আমাদের মতো রাজপথের কর্মীদের কথা নাইবা বললাম। আল্লাহ মহান এবং তিনি উত্তম পরিকল্পনাকারী।”
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তানভীর উদ্দিন সেজান পটিয়া উপজেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ছিলেন। তিনি উপজেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সেলিমের আপন ভাতিজা।
গত ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে তানভীর নিজ বাড়িতে থাকছেন না। বর্তমানে তিনি পটিয়া থানার পাশে বিওসি রোড এলাকায় তাঁর নানার বাড়িতে অবস্থান করছেন। তবে মাঝেমধ্যে এলাকায় যাতায়াত করেন বলে জানা গেছে।
নীতিমালা মেনেই তালিকা তৈরির দাবি কৃষি কর্মকর্তার
সুপারিশ তালিকা নিয়ে বিতর্কের বিষয়ে পটিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হাবিবুল্লাহ বলেন, নির্ধারিত নীতিমালা অনুসারে প্রতিটি ইউনিয়ন থেকে তিনজনের নাম প্রস্তাব করে জেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির কাছে পাঠানো হয়েছে। তাঁর দাবি, কোনো একক ব্যক্তির সিদ্ধান্তে এই নামগুলো প্রস্তাব করা হয়নি; বরং কমিটির সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত এবং বিধিমালা অনুসরণ করেই তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে।
পটিয়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব খোরশেদ আলমও ডিলার নিয়োগের প্রস্তাব পাঠানোর ক্ষেত্রে সরকারি নীতিমালা অনুসরণের কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, প্রতিটি ইউনিয়নের জন্য তিনজন করে প্রার্থীর নাম প্রস্তাব করা হয়েছে। পরে যাচাই-বাছাই শেষে সরকার যাঁকে উপযুক্ত মনে করেছে, তাঁকেই সুপারিশ করেছে।
ইউএনও ও সংসদ সদস্যের বক্তব্য পাওয়া যায়নি
তালিকা তৈরির বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারহানুর রহমানের বক্তব্য জানতে তাঁর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে তিনি ফোন ধরেননি। ফলে এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
অন্যদিকে, পটিয়া আসনের সংসদ সদস্য এনামুল হক এনামের সুপারিশ কিংবা তাঁর দেওয়া ডিও লেটারের ভিত্তিতে ডিলার নিয়োগের প্রস্তাবিত তালিকা তৈরি হয়েছে কি না, তা জানতে তাঁর সঙ্গেও একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। কিন্তু তিনিও ফোন রিসিভ না করায় এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।