
প্রয়াত চিত্রনায়ক সালমান শাহ-এর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনের লক্ষ্যে তার মরদেহ কবর থেকে উত্তোলনের অনুমতি দিয়েছেন আদালত। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে মরদেহ উত্তোলন, সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত এবং পুনরায় ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জিয়াউল মোর্শেদ-এর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৪ মে এ আদেশ দেন জুয়েল রানা। এর আগে ২০ মে তিনি আদালতে আবেদন করেন।
বুধবার (৯ জুন) তদন্তকারী কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, হত্যার প্রকৃত কারণ উদঘাটনের স্বার্থে মরদেহ উত্তোলনের অনুমতি চাওয়া হয়েছিল এবং আদালত তা মঞ্জুর করেছেন। প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে কবর থেকে মরদেহ উত্তোলন করে সুরতহাল প্রতিবেদন ও ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা হবে।
তদন্ত আবেদনে উল্লেখ করা হয়, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সকালে সালমান শাহর মা নিলুফা জামান চৌধুরী (নীলা চৌধুরী), বাবা কমর উদ্দিন আহমদ চৌধুরী এবং পরিবারের সদস্যরা রাজধানীর নিউ ইস্কাটনের বাসভবনে তাকে দেখতে যান। সেখানে তার স্ত্রী সামীরা হক ও কর্মচারীরা জানান, তিনি ঘুমিয়ে আছেন। পরে ফোন পেয়ে পরিবারের সদস্যরা আবার বাসায় ফিরে এসে তাকে শয়নকক্ষে অচেতন অবস্থায় দেখতে পান।
পরবর্তীতে তাকে প্রথমে হলি ফ্যামিলি হাসপাতাল এবং পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ময়নাতদন্ত শেষে তার মরদেহ সিলেটের হযরত শাহজালাল (র.) এর মাজার প্রাঙ্গণের কবরস্থানে দাফন করা হয়।
গত বছরের ২১ অক্টোবর সালমান শাহর মামা মোহাম্মদ আলমগীর রাজধানীর রমনা থানা-এ একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়।
মামলার আসামিদের মধ্যে রয়েছেন সালমান শাহর স্ত্রী সামীরা হক, আজিজ মোহাম্মদ ভাই, লতিফা হক লুছি, খলনায়ক ডন, ডেবিট, জাভেদ, ফারুক, রুবি, আব্দুস সাত্তার, সাজু ও রেজভি আহমেদ ফরহাদসহ মোট ১৭ জন। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, সালমান শাহর মৃত্যুর পর ১৯৯৬ সালে একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছিল। তবে গত ২০ অক্টোবর ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. জান্নাতুল ফেরদৌস ইবনে হক রিভিশন আবেদন মঞ্জুর করে ঘটনাটিকে হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন। এর পরদিন রমনা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।
এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, পরিকল্পিতভাবে পরস্পর যোগসাজশে সালমান শাহকে হত্যা করা হয়েছে। তবে অভিযোগের সত্যতা আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়া ও তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।