
২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি বিডিআর বিদ্রোহের সময় পিলখানায় সংঘটিত হত্যাকাণ্ডকে 'ইতিহাসের এক কলঙ্কজনক অধ্যায়' বলে অভিহিত করেছেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান।
বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) পিলখানা হত্যাকাণ্ডের ‘শহীদ দিবস’ উপলক্ষে ঢাকা সেনানিবাসের মাল্টিপারপাস হলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন
সেনা প্রধান বলেন, ২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন বিডিআর সদস্যদের বর্বরোচিত হামলায় নিহত নির্দোষ সেনা কর্মকর্তাদের আত্মত্যাগ বাংলাদেশের ইতিহাসে এক দাগ হয়ে আছে। পিলখানা ট্র্যাজেডির পর শহীদ পরিবারগুলোর সংগ্রামী জীবন ছিল অত্যন্ত বেদনাদায়ক। শহীদ সেনা সদস্যদের সন্তানরা বড় হওয়ার পথে মা-বাবার স্নেহ থেকে বঞ্চিত হয়েছে। তবে তারা একা নয়; শহীদদের প্রতিটি সন্তান আমাদেরই সন্তান। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সবসময় তাদের পাশে আছে এবং ভবিষ্যতেও সর্বাত্মক সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।
মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ওপর ভিত্তি করে তিনি আরও বলেন, “মুক্তিযুদ্ধের মহান আত্মত্যাগের ফলে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও বিজিবির মধ্যে একটি অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় দুই বাহিনী আজও একসাথে কাজ করছে।”
জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান এই ট্র্যাজেডির পুনরাবৃত্তি রোধে সেনাবাহিনী দৃঢ় প্রতিজ্ঞ বলে উল্লেখ করেন। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীও উপস্থিত ছিলেন, যার উপস্থিতি শহীদ পরিবারের মধ্যে নতুন আস্থা ও আশা সঞ্চার করেছে। সেনাপ্রধান প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, “শত ব্যস্ততার মধ্যেও দায়িত্ব গ্রহণের অল্প সময়ের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী শহীদ পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন, যা তাদের মধ্যে নতুন করে আশা জাগিয়েছে।”
পরিশেষে তিনি সকলকে একত্র হয়ে একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে কার্যকর ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান এবং অনুষ্ঠানের সুন্দর আয়োজনের জন্য সেনা সদরের এজি শাখা ও সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে বক্তব্য শেষ করেন।