
সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক (এসআইবিএল) পরিচালনায় হঠাৎ প্রশাসক পরিবর্তনের সিদ্ধান্তকে ঘিরে বাংলাদেশ ব্যাংকের ভেতরে শুরু হয়েছে আলোচনা ও বিতর্ক। দায়িত্বে থাকা প্রশাসক সালাহ উদ্দিনকে সরিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক আবুল বাশারকে নতুন প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সালাহ উদ্দিনকে রংপুর অফিসে এবং তার সহযোগী অতিরিক্ত পরিচালক রাশেদুল ইসলামকে প্রধান কার্যালয়ের সিএসডিতে বদলি করা হয়েছে।
সোমবার (১১ মে) বাংলাদেশ ব্যাংকের পৃথক প্রজ্ঞাপনে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। এর আগে ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে এসআইবিএলের প্রশাসক হিসেবে সালাহ উদ্দিনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। দায়িত্ব নেওয়ার ছয় মাসের মধ্যেই তাকে সরিয়ে দেওয়ায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিভিন্ন পর্যায়ে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
প্রজ্ঞাপনে বদলির কারণ উল্লেখ না থাকলেও, সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র বলছে, ব্যাংকটির কিছু বড় গ্রুপভিত্তিক ঋণ সুবিধা ও পুনঃতফসিল সংক্রান্ত বিষয়ে চাপ ছিল প্রশাসনের ওপর। তবে প্রশাসক হিসেবে সালাহ উদ্দিন নিয়মের বাইরে কোনো সুবিধা দিতে অনাগ্রহী ছিলেন বলেই তাকে সরিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া দ্রুত হয় বলে ধারণা করছেন অনেকে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘ব্যাংকটিকে স্থিতিশীল অবস্থায় ফিরিয়ে আনতেই প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু হঠাৎ করেই তাকে বদলি করার সিদ্ধান্ত প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।’
ঘটনার পর বিষয়টি আইনি দিক থেকেও আলোচনায় এসেছে। কারণ এসআইবিএল বর্তমানে ‘ব্যাংক রেজুলেশন আইন, ২০২৬’-এর আওতায় পরিচালিত হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের একটি অংশের দাবি, এই আইনের অধীনে প্রশাসক নিয়োগ বা অপসারণের ক্ষমতা ব্যাংক রেজুলেশন বিভাগের হাতে থাকার কথা। কিন্তু আদেশ জারি হয়েছে মানবসম্পদ বিভাগ থেকে, যা নিয়ে আইনি ব্যাখ্যার প্রয়োজন রয়েছে বলে তারা মনে করছেন।
আইনের বিভিন্ন ধারা উল্লেখ করে কর্মকর্তারা বলছেন, প্রশাসকের দায়িত্ব অবসানের ক্ষমতা বাংলাদেশ ব্যাংকের থাকলেও কোন প্রক্রিয়ায় এবং কোন বিভাগ থেকে সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে, সেটি স্পষ্ট নয়। ফলে পুরো প্রক্রিয়ার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে এসব অভিযোগ নাকচ করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, নিয়মিত প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই বদলি করা হয়েছে। নির্দিষ্ট সময় পর কর্মকর্তাদের ঢাকার বাইরে পদায়নের প্রচলিত নীতির ভিত্তিতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের সব বিভাগ একই প্রশাসনিক কাঠামোর অংশ হওয়ায় গভর্নরের নির্দেশনায় যেকোনো বিভাগ থেকেই এমন আদেশ জারি করা সম্ভব।