দেশে জ্বালানি তেলের ঘাটতি সামাল দিতে জরুরি ভিত্তিতে সৌদি আরব থেকে বড় পরিমাণ ডিজেল ও পেট্রোল আমদানি করছে সরকার। তবে রেশনিং ব্যবস্থা তুলে নেওয়ার ঘোষণা এলেও বাস্তবে এখনো স্বাভাবিক হয়নি জ্বালানি সরবরাহ।
রোববার (১৫ মার্চ) জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের এক বার্তায় জানানো হয়, বিদ্যমান চুক্তির বাইরে গিয়ে জরুরি ভিত্তিতে সৌদি আরব থেকে ১ লাখ মেট্রিক টন ডিজেল এবং ২৫ হাজার টন গ্যাসোলিন (পেট্রোল) কেনা হচ্ছে। এই আমদানিতে সরকারের ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা।
এদিকে দেশে জ্বালানি তেল বিক্রির ক্ষেত্রে চালু থাকা রেশনিং ব্যবস্থা বাতিল করেছে সরকার। সকালে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত জানান, সাধারণ ভোক্তাদের কাছে জ্বালানি বিক্রি এবং ফিলিং স্টেশনগুলোতে সরবরাহের ওপর আর কোনো সীমা থাকছে না।
তিনি বলেন, তেলের জাহাজ চট্টগ্রামে পৌঁছানোর কারণে জ্বালানি তেলের ওপর আরোপিত সব বিধিনিষেধ প্রত্যাহার করা হয়েছে। পাশাপাশি তিনি জানান, দেশের অর্থনীতি যতদিন চাপ সহ্য করতে পারবে, ততদিন জ্বালানির দাম বাড়ানো হবে না। রাশিয়ার তেল অন্য দেশের মাধ্যমে আনার সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।
তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের পরও মাঠপর্যায়ে পরিস্থিতির খুব একটা পরিবর্তন দেখা যায়নি। ঢাকা ও চট্টগ্রাম নগরীর বিভিন্ন রিফুয়েলিং স্টেশনে এখনো দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে জ্বালানি নিতে হচ্ছে গ্রাহকদের। সরবরাহ কম থাকায় এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো।
একই অবস্থা দেখা গেছে বরিশাল ও রাজশাহীর বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনেও। অনেক পাম্প এখনো আগের মতো সীমা নির্ধারণ করে তেল বিক্রি করছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে একজন গ্রাহক সর্বোচ্চ ৫০০ টাকার জ্বালানি নিতে পারছেন।
পাম্প মালিকদের দাবি, রেশনিং তুলে নেওয়ার বিষয়ে এখনো তারা আনুষ্ঠানিক কোনো নির্দেশনা পাননি। তাদের মতে, ডিপো থেকে তেল সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়ায় পরিস্থিতি এখনো স্থিতিশীল হয়নি।