
ইয়েমেনের রাজধানী সানায় সামরিক হামলা চালানো হলে সৌদি আরবের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় পাল্টা হামলার হুমকি দিয়েছে হুতি বিদ্রোহীরা। একই সঙ্গে এসব স্থাপনায় কর্মরত বিদেশি বিশেষজ্ঞ, প্রকৌশলী ও শ্রমিকদের নিরাপত্তার স্বার্থে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে গোষ্ঠীটি।
মঙ্গলবার এক ঘোষণায় হুতিরা জানায়, সানায় হামলা হলে সৌদি আরবের দাম্মামে অবস্থিত সৌদি আরামকোর প্রধান কার্যালয়, রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং রাজধানীতে অবস্থিত আরামকোর একটি শোধনাগারকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে।
হুতিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি এক বিবৃতিতে বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে সৌদি আরবের যেকোনো তেল স্থাপনাকে তাদের সামরিক বাহিনীর জন্য বৈধ লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। সম্ভাব্য হামলার ঝুঁকি এড়াতে সৌদি তেল স্থাপনাগুলোতে কর্মরত বিদেশি বিশেষজ্ঞ, প্রকৌশলী ও শ্রমিকদের অবিলম্বে নিরাপদ দূরত্বে সরে যাওয়ার সতর্কবার্তা দেন তিনি।
এ ছাড়া আগে লক্ষ্যবস্তু হিসেবে ঘোষণা করা বিমানবন্দর ও আকাশপথের ক্ষেত্রেও সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছে হুতিরা। বিমান সংস্থা, সাধারণ যাত্রী ও বিমানবন্দরের কর্মীদেরও সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট এবং ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের সঙ্গে হুতিদের দীর্ঘদিনের সংঘাতের মধ্যে নতুন এই হুমকি আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বাড়িয়েছে।
মঙ্গলবার সকালে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট হুতিদের নিয়ন্ত্রণে থাকা রাজধানী সানার আল-সাবাহা এলাকায় ইয়েমেন পেট্রোলিয়াম কোম্পানির কেন্দ্রীয় স্টেশন থেকে সাধারণ মানুষকে অবিলম্বে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেয়। জোটের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের আগে প্রাণহানি এড়াতে এই সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
এরপরই পাল্টা অবস্থান নেয় হুতিরা। সৌদি বাহিনী সানায় হামলা চালালে রিয়াদ ও দাম্মামের উল্লেখিত স্থাপনাগুলোতে আঘাত হানার হুঁশিয়ারি দেয় তারা।
পারস্পরিক এই হুমকির ফলে মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি।