
নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার কুতুবপুর ইউনিয়নের কুসুমবাগ এলাকায় এক স্কুলছাত্রীকে উত্ত্যক্ত ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কুপ্রস্তাব দেওয়ার প্রতিবাদ করায় দুজনকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার ফতুল্লা মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী স্কুলছাত্রী (১৫) এ বছর এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছে। বর্তমানে সে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য কোচিংয়ে যাতায়াত করছে। কোচিংয়ে যাওয়ার পথে প্রতিবেশী আমির হোসেন (৫০) ওই ছাত্রীকে নিয়মিত উত্ত্যক্ত করতেন এবং ইনস্টাগ্রামে অশ্লীল বার্তা পাঠিয়ে সম্পর্কের প্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন।
ভুক্তভোগী ছাত্রীর ভাই মো. ইব্রাহিম হৃদয় জানান, বিষয়টি জানার পর গত ৯ জুলাই রাত ৮টার দিকে ফতুল্লার চিতাশাল কুসুমবাগ এলাকায় লিয়াকতের বাড়ির সামনে আমির হোসেনকে আটকিয়ে উত্ত্যক্ত করতে নিষেধ করা হয়। এ সময় আমির হোসেন ক্ষিপ্ত হয়ে ইব্রাহিমের মামা মো. সুজনকে মারধর শুরু করেন। ইব্রাহিম তাঁর মামাকে বাঁচাতে এগিয়ে গেলে আমির হোসেন ধারালো সুইচ গিয়ার ছুরি দিয়ে তাঁকে হত্যার উদ্দেশ্যে আঘাত করেন।

ইব্রাহিম হৃদয় আরও জানান, তিনি হাত দিয়ে ঠেকাতে গেলে তাঁর বাম হাতের কনুই ও কবজির মাঝখানে গুরুতর জখম হয়, যেখানে চারটি সেলাই দিতে হয়েছে। পরে অভিযুক্ত ব্যক্তি পুনরায় বুকে আঘাত করলে ইব্রাহিমের টি-শার্ট ছিঁড়ে যায় এবং বুকে জখম হয়। স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্ত আমির হোসেন তাঁদের প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে পালিয়ে যান।
পরে আহতদের উদ্ধার করে ৩০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। এ ঘটনায় ন্যায়বিচার ও প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ভুক্তভোগীরা ফতুল্লা মডেল থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন।
ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহাবুব আলম বলেন, ‘অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’