
জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত চীনের বিদায়ী রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। মঙ্গলবার স্পিকারের কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।
সাক্ষাতে স্পিকার বলেন, চীন বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠ বন্ধু এবং দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে দেশটি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করে আসছে।
বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের প্রসঙ্গে হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নে প্রথম উদ্যোগ নেন। পরবর্তী সময়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াও এ সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
বৈঠকে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন স্পিকার। তিনি দাবি করেন, বিগত সরকারের ১৫ বছরের শাসনামলে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, অর্থ পাচার, গুম ও খুনের মতো ঘটনা জনগণের মৌলিক অধিকার ক্ষুণ্ন করেছে। সর্বশেষ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে আবারও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
স্পিকার বলেন, বাংলাদেশ-চীন সংসদীয় মৈত্রী গ্রুপ দুই দেশের আইনসভাগুলোর মধ্যে সম্পর্ক আরও জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গার প্রত্যাবাসন নিয়ে বাংলাদেশকে নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। এ সংকট সমাধানে রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে প্রত্যাবাসনে চীন সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
চীনের বিদায়ী রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেন, বাংলাদেশের বর্তমান সরকার জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে নির্বাচিত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক চীন সফর দুই দেশের সম্পর্ককে আরও সমৃদ্ধ করেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
ইয়াও ওয়েন আরও বলেন, চীন বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ বাণিজ্যিক অংশীদার। বড় প্রকল্পের পাশাপাশি বর্তমানে বাংলাদেশে মাঝারি ও ছোট আকারের বিভিন্ন প্রকল্পেও চীনা বিনিয়োগ রয়েছে।
বাংলাদেশকে এ অঞ্চলের উৎপাদনভিত্তিক কেন্দ্রে পরিণত করতে চীন আগ্রহী বলেও জানান তিনি। তাঁর মতে, তথ্যপ্রযুক্তি ও বিভিন্ন ধরনের লজিস্টিক পণ্য উৎপাদনের মাধ্যমে বাংলাদেশ অর্থনৈতিকভাবে আরও এগিয়ে যেতে পারে।
সাক্ষাতে দুই দেশের মধ্যে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, বাংলাদেশ-মিয়ানমার-চীন করিডোর স্থাপন, রোহিঙ্গা সংকট ও জ্বালানি ইস্যুসহ বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময় হয়।
স্পিকার বলেন, বাংলাদেশ সবসময় ‘ওয়ান চায়না পলিসি’ সমর্থন করে এবং ভবিষ্যতেও এ অবস্থান অব্যাহত রাখবে। তিনি ভোলাসহ দেশের উপকূলীয় এলাকায় তেল ও গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদনে চীনের বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিনিয়োগের আহ্বান জানান।
এ ছাড়া ইন্টার-পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের (আইপিইউ) এক্সিকিউটিভ কাউন্সিলে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি ব্যারিস্টার জহরত আদিব চৌধুরীর প্রার্থিতার বিষয়ে চীন সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন স্পিকার।
বৈঠকে চীনা দূতাবাসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিবসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।