
মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার মাঝেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দুই সপ্তাহের শর্তসাপেক্ষ যুদ্ধবিরতির ঘোষণায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে তাৎক্ষণিক ইতিবাচক প্রভাব দেখা গেছে। হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর সম্ভাবনায় তেলের দাম দ্রুত কমতে শুরু করেছে, পাশাপাশি শেয়ারবাজারেও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
বিবিসির তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতির শর্ত হিসেবে ইরান হরমুজ প্রণালি খুলে দেবে—এই ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম অন্তত ১৫ শতাংশ কমেছে। বুধবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ১৫ দশমিক ৯ শতাংশ হ্রাস পেয়ে ব্যারেলপ্রতি ৯২ ডলার ৩০ সেন্টে নেমে এসেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে লেনদেন হওয়া তেলের দাম প্রায় সাড়ে ১৬ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৯৩ ডলার ৮০ সেন্টে।
তবে দাম কমলেও তা এখনো যুদ্ধ-পূর্ব সময়ের তুলনায় বেশি অবস্থানে রয়েছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি সংঘাত শুরুর আগে প্রতি ব্যারেল তেলের দাম ছিল প্রায় ৭০ ডলার। যুদ্ধ শুরুর পর ইরান হরমুজ প্রণালিতে কার্যত নিয়ন্ত্রণ জোরদার করায় সরবরাহে বিঘ্ন ঘটে এবং তেলের দাম বেড়ে একপর্যায়ে ১১৯ ডলারে পৌঁছায়।
সংঘাতের কারণে মধ্যপ্রাচ্যে তেল ও গ্যাস সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। এর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বিমান হামলার প্রতিক্রিয়ায় হরমুজ প্রণালিতে চলাচলকারী জাহাজে হামলার হুমকি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, যুদ্ধবিরতি তখনই কার্যকর হবে যখন ইরান আন্তর্জাতিক জাহাজগুলোর জন্য হরমুজ প্রণালি ‘সম্পূর্ণ ও নিরাপদভাবে’ খুলে দেবে। তিনি বলেন, পাকিস্তানের দেওয়া ১১ ঘণ্টার বিশেষ প্রস্তাব এবং ইরানের পক্ষ থেকে প্রাপ্ত ১০ দফা প্রস্তাবের ভিত্তিতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। “আমরা বিশ্বাস করি, এই প্রস্তাব আলোচনার একটি কার্যকর ভিত্তি হতে পারে।”
অন্যদিকে, ইরান সরকার যুদ্ধবিরতিকে নিজেদের কৌশলগত সাফল্য হিসেবে তুলে ধরছে। দেশটির সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের (এসএনএসসিআই) বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইরান এই যুদ্ধে তার “প্রায় সব লক্ষ্যেই অর্জন করেছে। শত্রুপক্ষ একটি ঐতিহাসিক ব্যর্থতার সম্মুখীন হয়েছে।” যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পর দেশটির বিভিন্ন স্থানে সাধারণ মানুষকে আনন্দ মিছিল করতে দেখা গেছে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, এই সমঝোতায় মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ। তিনি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের শর্ত মেনে ইরান হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে সম্মত হয়েছে। তিনি বলেন, “আমি অত্যন্ত বিনয়ের সঙ্গে ঘোষণা করছি, ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং তাদের মিত্ররা লেবাননসহ সর্বত্র যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে, যা অবিলম্বে কার্যকর হবে।”
শাহবাজ শরীফ আরও জানান, উভয় পক্ষের মধ্যে স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে আগামী ১০ এপ্রিল শুক্রবার ইসলামাবাদে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এতে দুই দেশের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, “ইসলামাবাদ আলোচনা” একটি টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠায় কার্যকর ভূমিকা রাখবে এবং ভবিষ্যতে আরও ইতিবাচক অগ্রগতি আসবে।