
হামাস ফিলিস্তিনের ইসলামপন্থী স্বাধীনতাকামী সংগঠন। তাদের ইতিহাসের পুরো অধ্যায় জুড়ে সংগ্রাম, যুদ্ধ, আত্মত্যাগ। এ পর্যন্ত হামাসের নির্বাচিত শীর্ষ নেতাদের প্রায় প্রত্যকেই হত্যাকান্ডের শিকার হয়েছেন। হামাসের নেতৃত্ব মানেই যেন নিজের মৃত্যুর পরওয়ানা নিয়ে আসা। আবারও নতুন করে সংগঠনঠির শীর্ষ নেতৃত্ব নির্বাচনের প্রায় সব প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হয়েছে। এ পদে দুজন শীর্ষ নেতা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বলে রোববার এএফপিকে জানিয়েছেন সংগঠনটির এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই কর্মকর্তা জানান, হামাস ইতোমধ্যে নতুন শুরা কাউন্সিল গঠন সম্পন্ন করেছে। ধর্মীয় আলেমদের সমন্বয়ে গঠিত এ পরিষদটি সংগঠনের পরামর্শমূলক কাঠামো হিসেবে কাজ করে। পাশাপাশি নতুন রাজনৈতিক ব্যুরোও গঠন করা হয়েছে।
তিনি বলেন, “সংগঠনটি তিনটি অঞ্চলে অভ্যন্তরীণ নির্বাচন সম্পন্ন করেছে এবং এখন রাজনৈতিক ব্যুরোর প্রধান নির্বাচনের শেষ ধাপে রয়েছে।”
নেতৃত্বের দৌড়ে বর্তমানে খালেদ মেশাল ও খলিল আল-হাইয়া মুখোমুখি রয়েছেন বলে জানান তিনি। হামাসের আরেকটি সূত্রও একই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর গাজায় যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইসরায়েলি বাহিনী হামাসের একাধিক শীর্ষ নেতাকে হত্যা করেছে। নিহতদের মধ্যে সংগঠনটির সাবেক দুই প্রধানও রয়েছেন।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় ধাপ গত মাসে শুরু হলেও গাজায় সহিংসতা পুরোপুরি থামেনি। চুক্তি ভঙ্গের জন্য ইসরায়েল ও হামাস পরস্পরকে দায়ী করছে।
হামাসের সাংগঠনিক কাঠামো অনুযায়ী, প্রতি চার বছর অন্তর গাজা উপত্যকা, অধিকৃত পশ্চিম তীর ও বৈদেশিক নেতৃত্ব—এই তিন শাখা থেকে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে শুরা কাউন্সিল গঠিত হয়। ইসরায়েলের কারাগারে আটক হামাস সদস্যরাও ভোট দেওয়ার অধিকার রাখেন।
শুরা কাউন্সিল রাজনৈতিক ব্যুরো নির্বাচন করে এবং রাজনৈতিক ব্যুরোই শেষ পর্যন্ত সংগঠনের প্রধান নির্বাচন করে থাকে।