
ব্রাজিলকে বিশ্বমঞ্চের চূড়ায় নিয়ে যাওয়া ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম শ্রেষ্ঠ মাস্টারমাইন্ড কার্লোস আলবার্তো পেরেইরা এবার জীবনযুদ্ধের এক কঠিন লড়াইয়ে অবতীর্ণ হয়েছেন। ক্যান্সারের উন্নত চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৮৩ বছর বয়সী ব্রাজিলের এই বিশ্বকাপজয়ী কিংবদন্তি কোচ। বর্তমানে তিনি দেশটির সামারিতানো বারা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।
আন্তর্জাতিক ক্রীড়া মাধ্যম স্পোর্টস্টারের বরাত দিয়ে জানা গেছে, গত বুধবার (১৭ জুন) হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দেওয়া একটি বিবৃতিতে এই অভিজ্ঞ কোচের চিকিৎসাধীন থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে ঠিক কোন তারিখে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে কিংবা বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা ঠিক কেমন, সে ব্যাপারে বিস্তারিত কোনো তথ্য ওই বিবৃতিতে প্রকাশ করা হয়নি।
উল্লিখিত যে, ২০০৩ সালে পারেইরার শরীরে প্রথম 'হজকিন্স লিম্ফোমা' নামক ক্যান্সার শনাক্ত হয়। এরপর থেকে দীর্ঘ সময় ধরে তিনি নিয়মিত চিকিৎসকের পরামর্শ ও নিবিড় পর্যবেক্ষণে জীবন অতিবাহিত করছেন।
ব্রাজিলিয়ান ফুটবলের সোনালী ইতিহাসের রাজপুত্রদের অন্যতম রূপকার ধরা হয় পারেইরাকে। ১৯৯৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে তার জাদুকরী ডাগআউট নির্দেশনায় সেলেসাওরা তাদের চতুর্থ বিশ্বকাপ ট্রফি উঁচিয়ে ধরেছিল। পরবর্তীতে ২০০৬ সালের বিশ্বকাপেও তিনি ব্রাজিলের প্রধান কোচের দায়িত্ব সামলান। শুধু বিশ্বকাপই নয়, তার অধীনেই ২০০৪ সালের কোপা আমেরিকা এবং ২০০৫ সালের কনফেডারেশনস কাপের মর্যাদাপূর্ণ শিরোপাও ঘরে তুলেছিল সাম্বা বয়েজরা।
ব্রাজিল ফুটবল ফেডারেশনের অফিশিয়াল পরিসংখ্যান অনুসারে, সেলেসাওদের প্রধান কোচ হিসেবে তিনি রেকর্ড ১৭৭টি ম্যাচে ডাগআউটে দাঁড়িয়েছেন। যার মধ্যে তার হাত ধরে ব্রাজিল দল ১২৪টি ম্যাচে জয়ের মুখ দেখেছে, ৩৯টি ম্যাচ অমীমাংসিত বা ড্র হয়েছে এবং মাত্র ১৪টি ম্যাচে পরাজয়ের স্বাদ পেয়েছে।
এর বাইরেও ১৯৭০ সালের ঐতিহাসিক বিশ্বকাপজয়ী ব্রাজিল দলের কোচিং স্টাফের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন পারেইরা। পরবর্তীতে ২০১৪ সালের বিশ্বকাপে লুইজ ফেলিপে স্কলারির কোচিং প্যানেলে দলের টেকনিক্যাল কো-অর্ডিনেটর বা সমন্বয়কারীর ভূমিকায়ও তাকে দেখা গেছে।
ব্রাজিলের সীমানা ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবলেও রয়েছে তার ঈর্ষণীয় ও সমৃদ্ধ পদচারণা। বিশ্বমঞ্চে কুয়েত (১৯৮২), সংযুক্ত আরব আমিরাত (১৯৯০), সৌদি আরব (১৯৯৮) এবং দক্ষিণ আফ্রিকা (২০১০) জাতীয় দলের প্রধান কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করার এক অনন্য নজির রয়েছে তার।
বিশ্ব ফুটবলের এই অনন্য নক্ষত্রের হাসপাতালে ভর্তির খবর ছড়িয়ে পড়তেই ব্রাজিলের সাবেক ফুটবলার ও বিশ্বজুড়ে থাকা ফুটবল অনুরাগীরা তার দ্রুত রোগমুক্তি এবং সুস্থতা কামনা করছেন।