
চব্বিশের জুলাই আন্দোলন চলাকালে রাজধানীর গুলশানে আবুজর শেখ গুলিতে নিহতের ঘটনায় করা মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ২৫ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেছে পুলিশের অ্যান্টি টেররিজম ইউনিট (এটিইউ)।
চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়েছে, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে বেআইনি জনতা গঠন করে সাধারণ উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে বল ও উগ্রতা প্রয়োগের মাধ্যমে ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে প্ররোচনা দিয়ে হত্যাকাণ্ড সংঘটনে ভূমিকা রাখেন। তাদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ১৪৩/৩২৬/৩০২/১১৪/১০/৩৪ ধারায় অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে বলে তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
গত ১৮ ফেব্রুয়ারি এটিইউয়ের উপপরিদর্শক (এসআই) ইসরাইল হোসেন ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে গুলশান থানার সাধারণ নিবন্ধন শাখায় চার্জশিটটি দাখিল করেন। তবে চার্জশিট গ্রহণের বিষয়ে এখনও শুনানি হয়নি।
শুক্রবার গুলশান থানার আদালতের সাধারণ নিবন্ধন শাখার কর্মকর্তা উপপরিদর্শক মোক্তার হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
চার্জশিটভুক্ত উল্লেখযোগ্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী মোহাম্মদ এ আরাফাত, সাবেক এমপি মির্জা আজম এবং আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক।
মামলার এজাহারে বলা হয়, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই সন্ধ্যায় গুলশানের প্রগতি সরণির বারিধারা জেনারেল হাসপাতালের সামনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার একটি মিছিল চলছিল। এ সময় স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীরা মিছিলে গুলি চালান। এতে আবুজর শেখ গুলিবিদ্ধ হন। প্রথমে তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেট্রোপলিটন হাসপাতালে স্থানান্তর করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৭ জুলাই তিনি মারা যান।
এ ঘটনায় ২০২৪ সালের ১৬ নভেম্বর আবুজরের মা ছবি খাতুন গুলশান থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় শেখ হাসিনাসহ মোট ২৭ জনকে আসামি করা হয়।
তদন্ত শেষে চলতি বছরের ১৮ ফেব্রুয়ারি এটিইউ শেখ হাসিনাসহ ২৫ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করে। মামলায় বিচারপতি মানিকসহ তিন আসামি বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। শেখ হাসিনা ও ওবায়দুল কাদেরসহ ২২ জন পলাতক থাকায় তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আবেদন করেছেন তদন্তকারী কর্মকর্তা।