
খুলনার দিঘলিয়ায় প্রকাশ্যে কুপিয়ে পায়ের রগ কেটে হত্যা করা হয়েছে যুবদল নেতা মো. মুরাদ খাঁকে। নিহত মো. মুরাদ খাঁ উপজেলা সেনহাটি ইউনিয়ন যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। তিনি স্থানীয় মুনসুর খাঁ-এর ছেলে।
শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে উপজেলার সেনহাটি ইউনিয়নের বকশি বাড়ি কবরস্থানের সামনে এই ভয়াবহ ঘটনা ঘটে।
খুলনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া ফোকাল পয়েন্ট কর্মকর্তা) আবির সিদ্দিকী শুভ্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধের জেরে শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে দিঘলিয়া থানা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সাজ্জাদসহ ৪/৫ জন মুরাদের পথরোধ করে হামলা চালায়। হামলার মুখে আত্মরক্ষার চেষ্টা করে মুরাদ বক্সিবাড়ি মসজিদ সংলগ্ন একটি দোকানে আশ্রয় নেন। তবে হামলাকারীরা দোকানের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে পুনরায় আক্রমণ চালায়। এ সময় ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার দুই পায়ের রগ কেটে দেওয়া হয়।
পরে স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান মন্টু বলেন, পূর্ব শত্রুতার জের ধরে মুরাদকে হত্যা করা হয়েছে বলে জানতে পেরেছি। স্থানীয় চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা এই ঘটনা ঘটিয়েছে। মুরাদের দুই পায়ের রগ কেটে দেওয়ায় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়। এই ঘটনা অত্যন্ত ন্যাক্করজনক। রগ কেটে তাকে আটকে রাখায় শরীর থেকে সমস্ত রক্ত বের হয়ে সে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। এটা অমানবিক। আমরা অমানবিক এবং এই ঘৃণ্য হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানাই।
তিনি আরও বলেন, হত্যাকারী যেই হোক, তার রাজনৈতিক পরিচয় যাই হোক না কেন, আমরা প্রশাসনের কাছে জানাব, অবিলম্বে হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদানের ব্যবস্থা করতে হবে। এখানে হত্যাকারীর রাজনৈতিক পরিচয় দেখার প্রয়োজন নেই এবং কার সঙ্গে কি সম্পর্ক রয়েছে এটাও বিবেচ্য বিষয় নয়। আমাদের একজন রাজনৈতিক কর্মী শুধু নয়, একজন মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। হত্যাকারীরা যেন গ্রেপ্তার হয়।