
দীর্ঘ ১৩ বছরের প্রেমের সম্পর্কের পরও বিয়ের কথা ভাবেননি অভিনেত্রী হিনা খান ও রকি জয়সওয়াল। তবে স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার পর জীবনের অনিশ্চয়তা তাঁদের সম্পর্কের সমীকরণ বদলে দেয়। ভবিষ্যতে কী হবে, তা না জেনেই রকিকে বিয়ের প্রস্তাব দেন হিনা। আর সেই সিদ্ধান্তের পর তাঁদের বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হয় মাত্র ১৫ মিনিটেরও কম সময়ে।
সম্প্রতি টেনিস তারকা সানিয়া মির্জার উপস্থাপনায় ‘সার্ভিং ইট আপ উইথ সানিয়া’ অনুষ্ঠানে অতিথি হয়ে বিয়ের গল্প শোনান হিনা। অভিনেত্রী জানান, বিয়ের বিষয়টি নিয়ে আগে থেকে তাঁদের কোনো পরিকল্পনা ছিল না। বরং অসুস্থতার কারণে জীবনের অনিশ্চয়তা থেকেই হঠাৎ বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন তাঁরা।
রকির সঙ্গে এক দশকেরও বেশি সময়ের সম্পর্ক হিনার। প্রায় ১৩ থেকে ১৪ বছরের এই পথচলায় বিয়ের বিষয়টি কখনোই তাঁদের কাছে জরুরি হয়ে ওঠেনি। কিন্তু তৃতীয় পর্যায়ের স্তন ক্যানসার ধরা পড়ার পর নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তায় ভুগতে থাকেন অভিনেত্রী। তখন রকিকে নিজের সিদ্ধান্তের কথা জানান তিনি।
হিনা বলেন, ‘আমার স্বাস্থ্যের যে পরিস্থিতি ছিল, তখন আমি ওকে বলেছিলাম, হয় তুমি সামনে এগিয়ে যাও, নিজের পছন্দমতো কাউকে বিয়ে করো, নয়তো আমাকেই বিয়ে করো। কারণ, আগামীকাল কী হবে, আমি জানি না।’
অসুস্থতার সময় রকির সামনে নিজের জীবন নতুন করে গুছিয়ে নেওয়ার সুযোগও রেখেছিলেন হিনা। তিনি চাইলে অন্য কাউকে বিয়ে করতে পারতেন। তবে শেষ পর্যন্ত হিনাকেই জীবনসঙ্গী হিসেবে বেছে নেন রকি। এরপর আর দেরি না করে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন তাঁরা।
অনুষ্ঠানে বিয়ের দিনের একটি ছবি দেখে সেই সময়ের স্মৃতিচারণা করেন হিনা। সানিয়া মির্জা জানতে চান, তাঁদের বিয়ের আয়োজন সত্যিই মাত্র ১৫ মিনিটে শেষ হয়েছিল কি না। জবাবে হিনা জানান, সময় লেগেছিল ১৫ মিনিটেরও কম।
বিয়ের সিদ্ধান্তের কারণ ব্যাখ্যা করে অভিনেত্রী বলেন, ‘আসলে অনিশ্চয়তাই ছিল এর প্রধান কারণ। আমি জানতাম না সামনে কী ঘটতে যাচ্ছে। সত্যি বলতে, এমন অনিশ্চয়তা সবার জীবনেই আছে। তাই আমি বলেছিলাম, চলো, বিয়েটা করে ফেলি। ও বলেছিল, ঠিক আছে। বিয়ে নিয়ে ওর কখনো কোনো আপত্তি ছিল না।’
২০২৪ সালে হিনার তৃতীয় পর্যায়ের স্তন ক্যানসার শনাক্ত হয়। চিকিৎসা চলার মধ্যেই ২০২৫ সালের জুনে বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন তিনি ও রকি। মুম্বাইয়ে নিজেদের বাড়ির ছাদে ঘরোয়া আয়োজনে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সারেন তাঁরা। এতে দুই পরিবারের সদস্য ও ঘনিষ্ঠজনেরা উপস্থিত ছিলেন।