
গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের রায় কার্যকর না হলে সরকারের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠবে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগর উত্তরের সেক্রেটারি ড. মুহাম্মদ রেজাউল করিম।
রবিবার (১১ অক্টোবর) সকালে লক্ষ্মীপুর শহর জামায়াতের উদ্যোগে শহরের উত্তর তেমুহনী এলাকায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইনে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
ড. রেজাউল করিম বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে দেশের মানুষ দুটি ভোট দিয়েছিল। একটি সরকার গঠনের জন্য, অন্যটি গণভোটে নিজেদের মতামত জানানোর জন্য। সরকার দলীয় ভোটের ভিত্তিতে ক্ষমতায় এলেও গণভোটে প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষের রায় অস্বীকার করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি বলেন, “একটি ভোট যদি বৈধ হয়, তাহলে অন্য ভোট অবৈধ হবে কেন? আপনারা যদি গণভোটের রায় মেনে না নেন, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই এই সরকারের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠবে। কারণ জনগণ আপনাদের দুটি ভোটই দিয়েছিল।
তিনি আরও বলেন, আমাদের লংমার্চ সরকার পতনের জন্য নয়, বরং গণভোটে জনগণের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে। পাশাপাশি গ্যাস, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, দখলদারিত্ব ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
রেজাউল করিম বলেন, চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ীদের কোনো দলীয় পরিচয় থাকতে পারে না। অপরাধী যে দলেরই হোক, তাকে চিহ্নিত করে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে। রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে অপরাধ দমন এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সব রাজনৈতিক দলকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
জনগণের অধিকার ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং একটি স্থিতিশীল ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে তাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি অঙ্গীকার করেন।
ক্যাম্পেইনে আরও উপস্থিত ছিলেন লক্ষ্মীপুর জেলা জামায়াতের আমীর এস ইউ এম রুহুল আমিন ভূঁইয়া, সেক্রেটারি এ আর হাফিজ উল্লাহ, সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা নাছিরুদ্দিন মাহমুদ, জেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি মমিন উল্যাহ পাটওয়ারী, শহর জামায়াতের আমীর এডভোকেট আবুল ফারাহ নিশানসহ দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
পরে উত্তর তেমুহনী এলাকায় মশক নিধন ওষুধ ছিটানো ও পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালানো হয়। একই সঙ্গে পথচারীদের মাঝে ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়ে সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করা হয়।