
বাংলাদেশে সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজ থেকে এক যুগ আগে, অর্থাৎ ২০১৪ সালেই উত্থাপন করেছিলেন বলে দাবি করেছেন প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী। গত শনিবার (৩০ মে) যুক্তরাজ্যের লন্ডনে একটি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানান।
সালেহ শিবলী উল্লেখ করেন, বাংলাদেশে ২০১৮ সালে কোটা সংস্কার আন্দোলন আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলেও, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার পাঁচ বছর আগেই এ বিষয়ে প্রকাশ্যে নিজের সুনির্দিষ্ট মতামত দিয়েছিলেন।
দাবির সপক্ষে একটি পুরোনো ভিডিও ফুটেজ প্রদর্শন করে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব বলেন, "২০১৪ সালের ১৫ জুলাই লন্ডনের টাওয়ার হিলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তারেক রহমান বলেছিলেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে বিদ্যমান কোটাব্যবস্থা সংস্কার করে ৫ শতাংশে নামিয়ে আনা হবে। সরকারি চাকরিতে মেধার সর্বোচ্চ মূল্যায়ন নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই তিনি তখন এই দূরদর্শী অবস্থান নিয়েছিলেন।"
প্রদর্শিত ভিডিওতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বলতে শোনা যায়, "সরকারি চাকরিতে যে কোটা আছে, এখন বোধ হয় দেশে প্রায় ৫০ ভাগের মতো কোটা আছে। আমি মনে করি, এই কোটাটা ৫০ থেকে কমিয়ে মেধাবীদের জায়গা দেওয়ার জন্য ৫ শতাংশের মধ্যে নিয়ে আসা উচিত।"
সালেহ শিবলী বলেন, ২০২৪ সালে সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের যে আন্দোলন শুরু হয়েছিল, তা দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক যুগান্তকারী প্রভাব ফেলে। তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের দমন-পীড়নের মুখে সেই আন্দোলন ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে রূপ নেয় এবং এরই ধারাবাহিকতায় দেশে ঐতিহাসিক রাজনৈতিক পরিবর্তন সাধিত হয়।
তিনি আরও জানান, গত ১২ ফেব্রুয়ারির সাধারণ নির্বাচনের পর দায়িত্ব গ্রহণ করে বেকারত্ব নিরসন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে নানা বাস্তবমুখী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বিএনপি সরকার। এর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো পুনরায় চালুর প্রক্রিয়া, স্বাস্থ্য খাতে এক লাখ নার্স নিয়োগের ঐতিহাসিক ঘোষণা এবং বিদেশে দক্ষ জনশক্তি প্রেরণের লক্ষ্যে কারিগরি ও ভাষা প্রশিক্ষণ কর্মসূচি অন্যতম।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃত্বে যে নজিরবিহীন গণ-আন্দোলন গড়ে উঠেছিল, তৎকালীন সরকারের অতি-মাত্রায় বলপ্রয়োগের কারণে তা এক রক্তাক্ত গণ-অভ্যুত্থানের রূপ নেয়, যার ফলশ্রুতিতে ক্ষমতাচ্যুত হয় দীর্ঘ মেয়াদের আওয়ামী লীগ সরকার।