
দেশজুড়ে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে হামের প্রকোপ। গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে হাম এবং হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ১০টি শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ল্যাব পরীক্ষায় নিশ্চিত হামে ১ জন এবং হামের লক্ষণ বা উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে আরও ৯ জন। একই সময়ে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ১ হাজার ১৩৬ জন, যার মধ্যে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে ৫৩ জনের শরীরে।
মঙ্গলবার (২৬ মে) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ বিশেষ বুলেটিন ও প্রতিবেদন থেকে এ সব তথ্য জানা গেছে।
দুই মাসের ভয়াবহ চিত্র
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, গত দুই মাসে হামের সংক্রমণে পরিস্থিতি বেশ উদ্বেগজনক রূপ নিয়েছে। গত ১৫ মার্চ সকাল ৮টা থেকে আজ ২৬ মে সকাল ৮টা পর্যন্ত—এই দুই মাসে সারা দেশে হাম এবং হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ৫৫৫টি শিশুর প্রাণহানি ঘটেছে। মোট মৃত্যুর মধ্যে ৮৮টি শিশুর ক্ষেত্রে ল্যাব পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিতভাবে হামের উপস্থিতি প্রমাণিত হয়েছে। অন্যদিকে, ৪৬৭ জন শিশু মারা গেছে হামের তীব্র উপসর্গ নিয়ে।
অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই দুই মাসে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়েছেন (পরীক্ষায় প্রমাণিত) ৮ হাজার ৭৭২ জন রোগী। এছাড়া হামের উপসর্গ নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসেছেন আরও ৬৬ হাজার ২৩ জন।
শীর্ষে ঢাকা বিভাগ
চলতি বছরের এই হামের প্রকোপে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যায় সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে ঢাকা বিভাগ। দুই মাসের মোট আক্রান্ত ও প্রাণহানির অর্ধেকের বেশিই ঘটেছে এই বিভাগে। ঢাকা বিভাগে এখন পর্যন্ত হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ২৩৬ জন শিশু এবং আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৭ হাজার ২২৯ জনে।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ ও প্রস্তুতি
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিশুদের সুরক্ষায় হামের টিকা (MR Vaccine) নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। হঠাৎ উচ্চ তাপমাত্রা, শরীরে লালচে দানা বা র্যাশ, সর্দি-কাশি ও চোখ লাল হওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিলে কালবিলম্ব না করে নিকটস্থ হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর টিকাদান কর্মসূচি জোরদারকরণ এবং আক্রান্ত এলাকাগুলোতে বিশেষ মেডিকেল টিম গঠনের কাজ শুরু করেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।