
তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ফোয়াদ ইজাদি মন্তব্য করেছেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ইরানকে লক্ষ্য করে ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর সাম্প্রতিক আক্রমণাত্মক ভাষা ও ধারাবাহিক হুমকি তার মানসিক অস্থিরতার ইঙ্গিত দেয়।
আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ট্রাম্প বর্তমানে তীব্র রাজনৈতিক চাপের মধ্যে রয়েছেন। তার ধারণা ছিল, খুব অল্প সময়ের মধ্যেই ইরানে ‘রেজিম চেঞ্জ’ বা শাসনব্যবস্থা পরিবর্তন সম্ভব হবে। কিন্তু সেই লক্ষ্য অর্জিত না হওয়ায় তিনি হতাশ ও ক্ষুব্ধ হয়ে পড়েছেন।
অধ্যাপক ইজাদি মনে করেন, এই ব্যর্থতার ফলেই ট্রাম্পের বক্তব্যে উগ্রতা ও কুরুচিপূর্ণ ভাষার বহিঃপ্রকাশ ঘটছে। তিনি বলেন, রাজনৈতিক চাপ ও কৌশলগত ব্যর্থতার কারণে ট্রাম্পের আচরণ ক্রমেই অস্থির হয়ে উঠছে।
বর্তমান সংকটের প্রেক্ষাপটে ইরানের নেতৃত্ব পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে বলেও জানান তিনি। তার মতে, ট্রাম্প হয়তো কোনো এক পর্যায়ে নিজেকে ‘বিজয়ী’ ঘোষণা করে এই সংঘাতের সমাপ্তি টানার চেষ্টা করতে পারেন।
তবে সম্ভাব্য রাজনৈতিক সমঝোতা নিয়ে ইজাদি সতর্ক করে বলেন, ট্রাম্পের মতো নেতার সঙ্গে এমন কোনো চুক্তি করা কঠিন, যা ইরানের জন্য বাস্তবিকভাবে লাভজনক হবে।
তিনি আরও বলেন, কোনো ইরানি রাজনীতিকের পক্ষে ট্রাম্পের হাতে দেশের নিয়ন্ত্রণ তুলে দেওয়া ‘রাজনৈতিক আত্মহত্যা’র শামিল, যা সাধারণ জনগণ কখনোই মেনে নেবে না।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের ক্রমবর্ধমান হুমকির প্রেক্ষাপটে ইরানের নীতিনির্ধারকরা অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ করছেন।
সূত্র: আল জাজিরা