
এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা কার হাতে থাকবে, সে বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলে দাবি করেছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের গত ৩ আগস্টের সভার কার্যবিবরণীতে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার তথ্য রয়েছে।
সোমবার (১০ আগস্ট) রাতে শিক্ষামন্ত্রীর অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে অ্যাডমিনের পক্ষ থেকে দেওয়া এক পোস্টে মন্ত্রীর বরাত দিয়ে এ তথ্য জানানো হয়।
পোস্টে বলা হয়েছে, বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) ২০০৫ সালে বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন সরকারের সময়ে প্রতিষ্ঠিত হয়। সংস্থাটির কার্যক্রম ও শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ, দক্ষ ও কার্যকরভাবে কীভাবে পরিচালনা করা যায়, সে বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পর্যালোচনা অব্যাহত রয়েছে।
এতে আরও বলা হয়, ‘ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডি কর্তৃক শিক্ষক নিয়োগ প্রদান সংক্রান্ত কোনো সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়নি।’ এ বিষয়ে অপতথ্য প্রচার না করার জন্য সবার প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী।
তবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি সভার কার্যবিবরণীতে ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে।
গত ৩ আগস্ট শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত এক সভায় সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে, এখন থেকে এনটিআরসিএ এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগের সুপারিশ করবে না। একই সভায় এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণের নির্দেশনাও দেওয়া হয়।
সভার একটি কার্যবিবরণী বিভিন্ন গণমাধ্যমের হাতে এসেছে। এতে দেখা যায়, সভায় সভাপতিত্ব করেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। উপস্থিত ছিলেন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক, এনটিআরসিএ চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত দায়িত্ব) আলিফ রুদাবাসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
কার্যবিবরণী অনুযায়ী, এনটিআরসিএ চেয়ারম্যান সভায় জানান, ‘বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ আইন, ২০০৫’-এর আওতায় সংস্থাটির মূল দায়িত্ব হলো শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন পরীক্ষা গ্রহণ এবং যোগ্য প্রার্থীদের প্রত্যয়নপত্র দেওয়া।
সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, ‘বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ আইন, ২০০৫ অনুযায়ী এখন থেকে এনটিআরসিএ কেবল নিবন্ধন ও প্রত্যয়নের কাজ করবে। ২০১৫ সালের পরিপত্র অনুযায়ী আর নিয়োগের সুপারিশ করবে না।’
এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণের নির্দেশনাও দেওয়া হয়।
শুধু তাই নয়, সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১৮তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ৯ হাজার ৮৪২ জনকে তাদের পছন্দ অনুযায়ী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্বউদ্যোগে ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডির মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়ার কথা বলা হয়। এ জন্য প্রয়োজনীয় পরিপত্র বা প্রজ্ঞাপন সংশোধন কিংবা জারির সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়।
সভায় নেওয়া সিদ্ধান্ত ও তা বাস্তবায়নের নির্দেশনা নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশের পর ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। ঢাকা, জগন্নাথ, রাজশাহী ও চট্টগ্রামসহ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেন।
এ ছাড়া বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান, জামায়াত, এনসিপি, ছাত্রশক্তি, ছাত্রশিবিরসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও ছাত্র সংগঠন এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়েছে।
এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বৃহৎ সংগঠন এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণপ্রত্যাশী জোটও সারাদেশের প্রায় ৬ লাখ শিক্ষক-কর্মচারীকে নিয়ে তীব্র আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছে বলে জানা গেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন পেশাজীবী এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে পোস্ট দিচ্ছেন। তবে সোমবার রাত পর্যন্ত শিক্ষা মন্ত্রণালয় বা সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বিভিন্ন পক্ষের প্রতিবাদের মুখে শিক্ষামন্ত্রী এ ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন। সরকার শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতে পারে বলেও তিনি ইঙ্গিত দেন। তবে ৩ আগস্টের সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল—এটি সঠিক বলেও দাবি করেন ওই কর্মকর্তা।