
পরিচয়পত্র দেখতে চাওয়াকে কেন্দ্র করে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) প্রধান ফটকে দায়িত্বরত এক আনসার সদস্যকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল নেতা হিসেবে পরিচিত জিল্লুর রহমানের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি গত মঙ্গলবার (২১ জুলাই) দুপুর আনুমানিক দেড়টার দিকে ঘটে। পুরো ঘটনাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিসিটিভি ক্যামেরায় ধারণ হয়েছে।
অভিযুক্ত জিল্লুর রহমান বিশ্ববিদ্যালয়ের এনিম্যাল সাইন্স অ্যান্ড ভেটেরিনারি মেডিসিন অনুষদের ৭৬তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক সূত্র জানায়, প্রধান ফটকে দায়িত্ব পালনরত আনসার সদস্য আবুল হাসান রিকশায় করে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করা জিল্লুর রহমানের পরিচয় জানতে চান। পরে পরিচয়পত্র দেখতে চাইলে দুজনের মধ্যে কথাকাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে জিল্লুর রহমান আনসার সদস্যকে চড়-থাপ্পড় মারেন। ঘটনার সময় ভুক্তভোগীকে কোনো ধরনের প্রতিরোধ করতে দেখা যায়নি। পরে সিসিটিভি ফুটেজেও মারধরের বিষয়টি স্পষ্টভাবে ধরা পড়ে।
ভুক্তভোগী আনসার সদস্য আবুল হাসান বলেন, ‘আমি দায়িত্ব পালনকালে তাকে জিজ্ঞাসা করি তিনি শিক্ষার্থী কি না। তিনি শিক্ষার্থী বলে পরিচয় দেন এবং হলে যাওয়ার কথা বলেন। এরপর পরিচয়পত্র দেখতে চাইলে তিনি জানান, আইডি কার্ড সঙ্গে নেই। আমি বলি, ‘আপনি মিথ্যা বলছেন না তো?’—এ কথা বলার সঙ্গে সঙ্গেই তিনি আমার ইউনিফর্মের কলার ধরে ৫-৬টি থাপ্পড় মারেন। এরপর বলেন, ‘ডাক তোর জাবের বাপকে, ডাক তোর ইউনুস বাপকে। আমার ফেইস চিনে রাখ।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক আনসার সদস্যের দাবি, জিল্লুর রহমান এর আগেও একাধিকবার দায়িত্ব পালনরত আনসার সদস্যদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেছেন। এবার সেই আচরণ শারীরিক হামলায় রূপ নেয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক সূত্র জানায়, ঘটনার রাতেই উপাচার্য বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হন এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করেন।
অন্যদিকে, অভিযোগ অস্বীকার না করে ঘটনাটিকে ভুল বোঝাবুঝির ফল বলে দাবি করেছেন জিল্লুর রহমান। তিনি বলেন, ‘আমি নিজের পরিচয় দেয়ার পরও আনসার সদস্য আমাকে মিথ্যাবাদী বলেন এবং আইডি কার্ড দেখতে চান। আমি জানাই, আইডি কার্ড সঙ্গে নেই। এরপর অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরে আমি আনসার সদস্যের সঙ্গে কথা বলেছি এবং বিষয়টি পারস্পরিকভাবে মিটমাট হয়েছে।’
ঘটনা সম্পর্কে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বলেন, ‘ঘটনাটি সম্পর্কে আমরা জেনেছি। উভয় পক্ষকে মুখোমুখি বসিয়ে প্রকৃত ঘটনা যাচাই করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।’
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহ্বায়ক আহমেদুল কবির তাপস বলেন, ‘ঘটনাটি সম্পর্কে আমি অবগত। নিরাপত্তা বিভাগের মহাপরিচালকের সঙ্গে কথা বলার কথা ছিল। তবে আমি অসুস্থ থাকায় সেটি সম্ভব হয়নি। অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর কোনো সাংগঠনিক পদ নেই। তাই দলীয়ভাবে ব্যবস্থা নেয়ার বিষয়টি সে অর্থে প্রযোজ্য নয়।’