
মোহাম্মদপুরের নবীনগর হাউজিং এলাকায় এক কোটি টাকা চাঁদা দাবির ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার দুপুরে তাঁদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
এর আগে বুধবার রাতে অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করে মোহাম্মদপুর থানা-পুলিশ। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) তেজগাঁও বিভাগের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার (এডিসি) মো. জুয়েল রানা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে একজন মোহাম্মদপুর থানায় ২০২৪ সালের একটি ঘটনায় পুলিশ অ্যাসল্ট মামলার আসামি।
পুলিশ জানায়, রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁদের মধ্যে পাঁচজনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—ভোলার লালমোহনের মো. রিফাত হোসেন (২২), ঢাকার গেন্ডারিয়ার মো. শুভ (২৬), ভোলার চরফ্যাশনের মো. ইলিয়াস (২২), বোরহানউদ্দিনের মো. মহাসিন (২৪), পিরোজপুরের ভান্ডারিয়ার ইমন মৃধা (২৩) এবং ভোলার চরফ্যাশনের মো. সাব্বির (২২)। তাঁরা সবাই বর্তমানে ঢাকার মোহাম্মদপুর থানা এলাকায় বসবাস করেন।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, রিফাত হোসেনের বিরুদ্ধে ২০২৪ সালে মোহাম্মদপুর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা রয়েছে। শুভ ও ইলিয়াসের বিরুদ্ধে ২০২২ সালে দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় মোহাম্মদপুর থানায় মামলা হয়। এর মধ্যে ইলিয়াস ২০২৪ সালের ২০ জুলাই মোহাম্মদপুর থানায় দায়ের হওয়া একটি পুলিশ অ্যাসল্ট মামলারও আসামি।
এ ছাড়া মহাসিনের বিরুদ্ধে ২০২৩ সালে ভোলার বোরহানউদ্দিন থানায় যৌতুক নিরোধ আইনে মামলা রয়েছে। ইমন মৃধার বিরুদ্ধে ২০২৬ সালের ৪ মার্চ দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া থানায় মামলা করা হয়।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ সেপ্টেম্বর দুপুরে মোহাম্মদপুরের নবীনগর হাউজিং এলাকায় একটি ডেভেলপার কোম্পানির কাছে এক কোটি টাকা চাঁদা দাবি করে একদল সন্ত্রাসী। এ সময় ৮ থেকে ১০ জন ওই অফিসে প্রবেশ করে। একপর্যায়ে চাঁদার টাকা দিতে এবং তাদের কথামতো কাজ করতে রাজি না হওয়ায় কোম্পানির কর্মচারী ইমরানকে মারধর করা হয়।
অভিযোগে বলা হয়, হামলার একপর্যায়ে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে ইমরানের বাম হাতের কবজির ওপর গুরুতর জখম হয়। মারধরের সময় আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা বিভিন্ন ধরনের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।