
রাজধানীর গুলশানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের ঝটিকা মিছিলে অংশ নেওয়ার অভিযোগে করা মামলায় গ্রেপ্তার ১৫ জনকে তিন দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত।
বুধবার ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তাদের হাজির করে পুলিশ। তদন্তের প্রয়োজনে আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা দরকার জানিয়ে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা। শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা প্রত্যেকের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
রিমান্ডে ১৫ জন
আদালতের আদেশে রিমান্ডে নেওয়া ব্যক্তিরা হলেন—নিরব খান, সাইফুল ইসলাম, জুয়েল শিকদার, সাহেদ, শান্ত শেখ, হারুন মাইজভান্ডারি, খালেদ মাহমুদ ফয়সাল, সফিকুর রহমান, বিল্লাল গাজি, ইসমাইল সিরাজী, আরিফুর রহমান, ইদ্রিসুর আলম, জয়নাল আবেদীন মামুন, জয়েন্ত কুমার ও মোজাম্মেল হক।
বুধবার তাদের আদালতে হাজির করার পর মামলার তদন্তের স্বার্থে জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে সাত দিনের হেফাজত চায় পুলিশ।
তবে উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার পর আদালত প্রত্যেক আসামির জন্য তিন দিনের রিমান্ডের আদেশ দেন।
১১ সেপ্টেম্বর গুলশানে ঝটিকা মিছিল
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ১১ সেপ্টেম্বর দুপুর পৌনে ১২টার দিকে গুলশান থানার ৩ নম্বর সড়কে জড়ো হন নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ৮০ থেকে ১০০ জন অজ্ঞাতনামা নেতাকর্মী।
অভিযোগ অনুযায়ী, তারা পাকা সড়কে সমবেত হয়ে বিস্ফোরক দ্রব্য সঙ্গে নিয়ে মিছিল শুরু করেন।
ককটেল বিস্ফোরণে আতঙ্ক সৃষ্টির অভিযোগ
মিছিলটি নিয়ে পুলিশ প্লাজার দিকে যাওয়ার সময় কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
পুলিশের অভিযোগ, সরকারের ভাবমূর্তি নস্যাৎ করা এবং ওই এলাকায় নাশকতা সৃষ্টির উদ্দেশ্যেই মিছিলকারীরা ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করেন।
ঘটনার পর এ বিষয়ে গুলশান থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়। ওই মামলায় গ্রেপ্তার ১৫ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্যই সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেছিল পুলিশ। শুনানি শেষে আদালত তাদের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।