
রাজধানীর দয়াগঞ্জ রেলক্রসিংসংলগ্ন গুমটিঘর এলাকায় মাদকবিরোধী যৌথ অভিযানে দুই নারীসহ ১৫ জনকে আটক করা হয়েছে। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাঁদের প্রত্যেককে তিন মাসের কারাদণ্ড ও ১০০ টাকা করে জরিমানা করা হয়।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) বিকেল ৩টা ১০ মিনিট থেকে ৫টা পর্যন্ত মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি) ও এসআরবির যৌথ দল এ অভিযান চালায়।
অভিযানে ঘটনাস্থল থেকে ইয়াবা, গাঁজা ও হেরোইনসহ মাদক সেবনের বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। পাশাপাশি মাদক সেবন ও কেনাবেচার কাজে ব্যবহৃত অস্থায়ী কাগজের ছাউনি ও ঝুপড়িগুলো ভেঙে দেওয়া হয়।
অভিযানে অংশ নেওয়া কর্মকর্তাদের ভাষ্য, সকাল থেকেই রেললাইনের পাশে গুমটিঘর এলাকায় প্রকাশ্যে মাদক কেনাবেচা ও সেবন চলছিল। বিকেলে এসআরবি-৩ ও ডিএনসির সদস্যরা ছদ্মবেশে অভিযান শুরু করলে সেখানে থাকা ব্যক্তিদের অনেকে পালানোর চেষ্টা করেন। তাঁদের কয়েকজন দেয়াল টপকে সরে যান। পরে ঘটনাস্থল থেকে মাদক কেনাবেচা ও সেবনের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ১৫ জনকে আটক করা হয়।
ডিএনসির ঢাকা উত্তরের উপপরিচালক মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘এখানে মাদক কেনাবেচার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা সবাই ভাসমান। একবার অভিযান চালানো হলে পালিয়ে যায়। কিছুক্ষণ পর আবার আসে। পুরোপুরি নির্মূল করা যায় না। জায়গাটিতে নিয়মিত কাউকে রাখতে পারলে সুফল পাওয়া যাবে।’
অভিযান শেষে ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মির্জা মোহাম্মদ তাওশিফ শরিফ আটক ব্যক্তিদের সাজা ঘোষণা করেন। সাংবাদিকদের তিনি জানান, ১৫ জনের প্রত্যেককে তিন মাসের কারাদণ্ডের পাশাপাশি ১০০ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।
এর আগে গত শনিবার (১৭ অক্টোবর) একই মাদক স্পটে ব্যক্তিগত উদ্যোগে সহযোগীদের নিয়ে অভিযান চালিয়ে আলোচনায় আসেন সদ্য সাবেক মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। সে সময় তাঁর হাতে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে উপস্থিত ব্যক্তিদের দিকে এগিয়ে যাওয়ার দৃশ্য তাঁর ফেসবুক পেজে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা যায়।
ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকা অবস্থায় অস্ত্র প্রদর্শন করে এ ধরনের অভিযানে অংশ নেওয়া নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়। বিষয়টি নিয়ে সরকার ও তাঁর দল বিএনপির মধ্যেও অস্বস্তি ও অসন্তোষ তৈরি হয়।
সমালোচনার মধ্যে রোববার (১৮ অক্টোবর) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ইশরাক হোসেনকে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর পদ ছাড়ার নির্দেশ দেন। পরদিন সোমবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে পদত্যাগের কথা জানান ইশরাক হোসেন।