
ঢাকার সাভারে পরপর রহস্যজনক হত্যাকাণ্ডে জনমনে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। কয়েক মাসে একাধিক লাশ উদ্ধারের ঘটনায় দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর অবশেষে সম্ভাব্য এক ‘সিরিয়াল কিলার’-এর সন্ধান পাওয়ার দাবি করেছে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, সাভার মডেল থানার আশপাশে দীর্ঘদিন ঘোরাফেরা করা সম্রাট নামে এক ভবঘুরেকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি অন্তত ছয়টি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলে দাবি করেছে সাভার মডেল থানা পুলিশ।
পুলিশ সূত্রের তথ্যে জানা যায়, প্রায় সাত মাস আগে সাভার মডেল মসজিদের সামনে এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর গত বছরের ২৯ আগস্ট সাভার পৌর কমিউনিটি সেন্টার থেকে একটি অজ্ঞাত মরদেহ পাওয়া যায়। একই স্থান থেকে গত ১৯ ডিসেম্বর আরও একটি মরদেহ উদ্ধার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। সর্বশেষ গত ১৮ জানুয়ারি রোববার সাভার পৌর কমিউনিটি সেন্টারের একটি পরিত্যক্ত ভবন থেকে আগুনে পোড়া অবস্থায় দুটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
একই এলাকার আশপাশে ধারাবাহিকভাবে এসব হত্যাকাণ্ড ঘটায় তদন্তে গতি বাড়ায় পুলিশ। অনুসন্ধানের একপর্যায়ে সন্দেহভাজন হিসেবে সম্রাটকে আটক করা হয়। পুলিশ বলছে, প্রাথমিকভাবে তার দেওয়া তথ্য ও ঘটনাস্থলসংক্রান্ত পারিপার্শ্বিক আলামতের সঙ্গে উদ্ধার হওয়া হত্যাকাণ্ডগুলোর মিল পাওয়া গেছে।
সাভার মডেল থানার এক কর্মকর্তা জানান, আটক ব্যক্তিকে আরও নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডগুলোর প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনের চেষ্টা চলছে। তদন্ত শেষ হলে বিস্তারিত জানানো হবে।
এ বিষয়ে সাভার মডেল থানার ওসি আরমান আলী বলেন, “ঘটনাটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক ও নৃশংস। লাশ উদ্ধারের সঙ্গে সঙ্গেই আমরা সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে বিশ্লেষণ শুরু করি। ফুটেজ ও পারিপার্শ্বিক তথ্যের ভিত্তিতে সন্দেহভাজনকে শনাক্ত করে দ্রুত আটক করা সম্ভব হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে একাধিক হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। অধিকতর তদন্ত শেষে আর কেউ এ নৃশংসতার সঙ্গে জড়িত আছে কি না তাদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনা হবে।”
এদিকে একের পর এক হত্যার ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও ভীতির পরিবেশ তৈরি হয়েছে। দ্রুত ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত সম্পন্ন করে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।