
নারায়ণগঞ্জের বন্দরে একটি বেসরকারি হাসপাতালের পরিচালকের কাছে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ১১ জনকে আসামি করে মামলা করা হয়েছে।
গত শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) রাতে ভুক্তভোগী নিজেই বাদী হয়ে বন্দর থানায় মামলাটি দায়ের করেন। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, নাম উল্লেখ করা ৬ জন আসামি বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী।
মামলার তথ্য অনুযায়ী, বন্দর থানার মদনপুর ফুলহর এলাকার মদনপুর স্পেশালাইজড হাসপাতালের পরিচালক মিতু আক্তারের কাছে অভিযুক্তরা চাঁদা দাবি করেন। পরে তিনি ৬ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ৫ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন।
মামলায় আসামি করা হয়েছে—মদনপুর ফুলহর এলাকার শহিদুল্লাহ পাইসার ছেলে এসএম মোমেন, মৃত মহব্বত আলীর ছেলে মো. শফিউল্লাহ (৪০), হাবিব উল্লাহর ছেলে এসএম বিল্লাল ওরফে টোকাই বিল্লাল (২২), জাহেরুল্লাহর ছেলে দ্বীপ হোসেন (২৮), আলাল হোসেনের ছেলে আরাফাত (১৮) এবং রিয়াজ উদ্দিনের ছেলে সুজন (১৯)।
এজাহারে মিতু আক্তার উল্লেখ করেন, অভিযুক্তরা আগে আওয়ামী লীগের সহযোগী ছিলেন। ৫ আগস্টের পর তারা বিএনপির পরিচয় ব্যবহার করে এলাকায় সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি দেখিয়ে জোরপূর্বক অর্থ আদায় করছেন। তার কাছেও ২০ লাখ টাকা দাবি করা হয় এবং টাকা না দিলে হাসপাতাল পরিচালনায় বাধা দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়।
মামলার বিবরণে আরও বলা হয়, গত ১৬ ফেব্রুয়ারি বিকাল ৪টার দিকে দেশীয় অস্ত্রসহ অভিযুক্তরা হাসপাতালে প্রবেশ করে ২০ লাখ টাকা দাবি করেন। দাবিকৃত অর্থ দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা গালিগালাজ ও মারধরের চেষ্টা করেন। পরে ১৮ ফেব্রুয়ারি বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে আবার হাসপাতালে গিয়ে চাঁদা দাবি করা হয়। এ সময় ভবনের কেয়ারটেকার মো. সালাউদ্দিনকে (৩৬) মারধর করে রক্তাক্ত করা হয় এবং তার কাছে থাকা ভবন ভাড়ার ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা নিয়ে যাওয়া হয়।
এ বিষয়ে বন্দর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হারুন অর রশিদ লিটন বলেন, অভিযুক্তরা বিএনপির কেউ নন। তারা বিএনপির কোনো কর্মকাণ্ডের সঙ্গেও জড়িত নন।
বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম মোক্তার আশরাফ উদ্দিন জানান, থানায় মামলা গ্রহণ করা হয়েছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বিষয়টি দেখছেন। তদন্ত করে কোনো সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।