
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার রঙ্গারচর ইউনিয়নের হরিণাপাটি গ্রামে সুরমা নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে ড্রেজার দিয়ে বালু ও মাটি তোলার কারণে নদীভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। এতে বসতবাড়ি, রাস্তা ও বাজার হুমকির মুখে পড়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) ভোররাতে ড্রেজার দিয়ে হরিণাপাটি গ্রামের পাশ থেকে বালু উত্তোলনের সময় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী বালুভর্তি একটি নৌকা আটক করেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, নদী থেকে ড্রেজারের মাধ্যমে অবৈধভাবে বালু ও মাটি উত্তোলনের ফলে নদীর তীর ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হরিণাপাটি বাজারসংলগ্ন সড়কের একটি অংশ ইতোমধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। নতুন করে আরও কয়েকটি স্থানে ভাঙনের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
হরিণাপাটি গ্রামের বাসিন্দা ইব্রাহিম বলেন, নদীভাঙনের কারণে আমরা ঘরবাড়ি হারিয়েছি। বারবার বলেও কোনো লাভ হয়নি। নিরুপায় হয়ে আমরা নিজেরাই নৌকা আটক করেছি।
একই গ্রামের জমির আলী অভিযোগ করেন, এলাকার প্রভাবশালীরা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু ও মাটি উত্তোলন করছেন। আমরা চাই দ্রুত এসব বন্ধ হোক।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. রাসেল মিয়া বলেন, গ্রামের সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে অবৈধ বালুভর্তি একটি নৌকা আটকে রাখেন। পরে পুলিশকে খবর দিয়ে নৌকা থানায় পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে।
রঙ্গারচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল হাই বলেন, নদী থেকে প্রায় প্রতিদিনই অবৈধ ড্রেজিং চলছে। এর ফলে বসতবাড়ি, রাস্তাঘাট, বাজারসহ বিভিন্ন স্থাপনা ভাঙনের ঝুঁকিতে পড়েছে। আমরা বারবার প্রশাসনকে জানিয়েছি, কিন্তু এখনো কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার এস আই মো. ফরিদ হোসেন বলেন, ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে ঘটনাস্থলে যাই। স্থানীয় চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যদের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। আটক নৌকাটি বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে রয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।