
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার নেশা কেড়ে নিল এক উদীয়মান কিশোরের প্রাণ। বরিশালের আগৈলঝাড়ায় টিকটক ভিডিওর জন্য আত্মহত্যার অভিনয় করতে গিয়ে অসাবধানতাবশত গলায় ওড়না পেঁচিয়ে রাজ মন্ডল জয় নামে এক স্কুলছাত্রের মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে নিহতের স্বজনরা এখন দিশেহারা।
নিহত রাজ মন্ডল জয় বরিশালের গৈলা ইউনিয়নের পশ্চিম সুজনকাঠী গ্রামের হরিষত মন্ডলের ছেলে। সে স্থানীয় ভেগাই হালদার পাবলিক একাডেমির দশম শ্রেণিতে পড়াশোনা করত। জয়ের মা শরীয়তপুরের একটি হাসপাতালে নার্স হিসেবে কর্মরত থাকলেও বাড়িতে বাবা, বোন ও দাদির সঙ্গেই থাকত সে। নিজের টিকটক অ্যাকাউন্টে নিয়মিত কনটেন্ট আপলোড করে জয় এলাকায় টিকটকার হিসেবে বেশ পরিচিতি পেয়েছিল এবং তার ভিডিওগুলোতে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ভিউ ও ফলোয়ার ছিল।
ঘটনার বিবরণে জানা যায় যে গত ৪ মার্চ সন্ধ্যায় জয় তার নিজ ঘরের দোতলায় টিকটকের নতুন একটি ভিডিও চিত্র ধারণ করার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। আত্মহত্যার দৃশ্য অভিনয় করে দেখানোর সময় হঠাৎ গলায় ওড়না আটকে ফাঁস লেগে যায় তার। দীর্ঘ সময় জয় ঘর থেকে বের না হওয়ায় তার ছোট বোন নুপু মন্ডল দোতলায় খোঁজ নিতে গিয়ে ভাইকে আড়ার সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পায়। বোনের চিৎকারে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এসে জয়কে উদ্ধার করে দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
খবর পেয়ে আগৈলঝাড়া থানার এসআই ওমর ফারুক হাসপাতালে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যান। স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবারের সদস্যরা নিশ্চিত করেছেন যে ঘটনার আগে জয়ের সাথে কারো কোনো বিবাদ বা মনোমালিন্য হয়নি। মূলত টিকটক ভিডিওর দৃশ্য ধারণ করতে গিয়েই এই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে।
সন্তানকে হারিয়ে বিলাপ করতে করতে জয়ের মা নার্স স্মৃতি মন্ডল কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, "আমি সরকারের কাছে টিকটক বন্ধ করার দাবি জানাই।"
আইনি প্রক্রিয়া সম্পর্কে আগৈলঝাড়া থানার এসআই ওমর ফারুক জানান যে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যার খবর পেয়ে বুধবার রাতে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে বৃহস্পতিবার দুপুরে ময়নাতদন্ত ছাড়াই পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়। এই মর্মান্তিক ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়েছে।