
ভোলার তজুমদ্দিনে চলতি মৌসুমে বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়া, পর্যাপ্ত সেচ সুবিধা এবং উন্নত জাতের বীজ ব্যবহারের ফলে এবার হেক্টরপ্রতি ফলন গত বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এতে কৃষকদের মুখে স্বস্তির হাসি ফুটেছে।
উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ জমিতেই ধানের শীষ ভারী হয়ে নুয়ে পড়েছে। কৃষকরা বলছেন, সময়মতো সার ও কীটনাশক ব্যবহারের পাশাপাশি আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় রোগবালাই তুলনামূলক কম হয়েছে। তবে ভালো ফলনের আনন্দের মাঝেও কৃষকদের মনে শঙ্কা রয়েছে ধানের ন্যায্য দাম নিয়ে। ইতোমধ্যে অনেক এলাকায় ধান কাটার মৌসুম শুরু হলেও বাজারে দাম প্রত্যাশার তুলনায় কম। কৃষকদের অভিযোগ, উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় লাভের পরিমাণ কমে যেতে পারে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ বছর উপজেলার ৫টি ইউনিয়নে ব্রি ধান উপশী ৭৪, ১০১, ১০২, ১১৪, বিনা ধান ১৯, ২৪, ২৫, হিরাধানসহ স্থানীয় কৃষকরা নিজেদের চাহিদামতো বিভিন্ন প্রজাতির ধান চাষ করেন। উপজেলায় চাষাবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২ হাজার ৫৮০ হেক্টর, চাষাবাদ হয়েছে ২ হাজার ৬০০ হেক্টর, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ২০ হেক্টর বেশি। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ২০ হাজার ৮০০ মেট্রিক টন। যেহেতু ধান কাটার মৌসুম শুরু হয়েছে, সেহেতু লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে বলে আশা করছে সংশ্লিষ্ট দপ্তর।
স্থানীয় কৃষকরা জানান, শ্রমিক সংকটের কারণে ধান কাটতে বাড়তি খরচ হচ্ছে। অনেকেই বাধ্য হয়ে যন্ত্রের সাহায্যে ধান কাটছেন, যার খরচও কম নয়। এর সঙ্গে পরিবহন ব্যয় ও সার-কীটনাশকের উচ্চমূল্য যোগ হয়ে মোট খরচ আরও বেড়েছে।
এ বিষয়ে তজুমদ্দিন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. ইব্রাহিম বলেন, এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবং কৃষকদের আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের কারণে বোরো ধানের ভালো ফলন হয়েছে। আমরা মাঠ পর্যায়ে নিয়মিত পরামর্শ ও সহায়তা দিয়েছি। আশা করছি, কৃষকরা ভালো ফলনের সুফল পাবেন। আগামী ১০ থেকে ১২ দিন আবহাওয়া ভালো থাকলে কৃষকরা তাদের উৎপাদিত সব ফসল ঘরে তুলতে পারবে।
তিনি আরও বলেন, সরকারিভাবে ধান সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু হলে বাজারে দামের স্থিতিশীলতা আসবে। কৃষকদের যেন ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা যায়, সে বিষয়ে আমরা সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছি।
এদিকে কৃষকদের দাবি, দ্রুত সরকারিভাবে ধান সংগ্রহ শুরু করা হলে তারা ন্যায্য দাম পাবেন এবং লোকসানের আশঙ্কা কমবে। সব মিলিয়ে বাম্পার ফলন কৃষকদের মাঝে আশার সঞ্চার করলেও বাজারদর ও উৎপাদন খরচের চাপ তাদের মনে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।