
তুচ্ছ ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে সংঘটিত নুরুল হক হত্যা মামলায় দীর্ঘ ১৮ বছর পর রায় ঘোষণা করেছেন আদালত। এই হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত থাকার অপরাধে একই পরিবারের তিন ভাইকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
রোববার (১০ মে) দুপুরে ময়মনসিংহের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ চতুর্থ আদালতের বিচারক ফারজানা আহমেদ জনাকীর্ণ আদালতে এই রায় প্রদান করেন।
দণ্ডপ্রাপ্তদের পরিচয় ও জরিমানার বিধান
আদালতের নির্দেশে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন—গফরগাঁও উপজেলার শিলাসী গ্রামের গিয়াস উদ্দিনের তিন ছেলে শাহবাজ মিয়া (৫৮), হানিফা (৫০) ও মো. রফিকুল ইসলাম (৫৩)। কারাদণ্ডের পাশাপাশি আদালত প্রত্যেককে ৩০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দিয়েছেন, যা পরিশোধে ব্যর্থ হলে তাঁদের আরও ৬ মাস অতিরিক্ত জেল খাটতে হবে। ময়মনসিংহের কোর্ট ইন্সপেক্টর মোস্তাছিনুর রহমান রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ঘটনার প্রেক্ষাপট: ২০০৮ সালের সেই রক্তক্ষয়ী সকাল
মামলার নথিপত্র ও আদালত সূত্রে জানা যায়, ঘটনার সূত্রপাত ২০০৮ সালের ১০ আগস্ট সকালে। শিলাসী গ্রামে নুরুল হকের বাড়ির পাশের একটি বড়ই বাগানে স্থানীয় একদল কিশোর ফুটবল খেলছিল। খেলার একপর্যায়ে বলটি নুরুল হকের বাড়ির টিনের বেষ্টনীতে (বেড়া) আঘাত করলে তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন এবং কিশোরদের বকাঝকা করে তাড়িয়ে দেন।
এই ঘটনার জেরে ওই কিশোরদের স্বজন শাহবাজ মিয়াসহ তাঁর পরিবারের সদস্যরা দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে নুরুল হকের ওপর বর্বরোচিত হামলা চালায়। গুরুতর জখম অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক নুরুল হককে মৃত ঘোষণা করেন।
মামলা ও আইনি লড়াই
বাবার এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের পর তাঁর ছেলে কাজল মিয়া বাদী হয়ে গফরগাঁও থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ তদন্ত শেষে পুলিশ ৬ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট জমা দেয়। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় সাক্ষীদের জবানবন্দি ও উভয় পক্ষের যুক্তি-তর্ক বিশ্লেষণ করে আদালত তিন ভাইয়ের বিরুদ্ধে অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় তাঁদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করেন এবং বাকিদের নির্দোষ ঘোষণা করে খালাস দেন।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন আইনজীবী মাসুদুল আলম খান তান্না এবং আসামিপক্ষে ছিলেন এ.এইচ.এম. খালেকুজ্জামান। বেঞ্চ সহকারী আব্দুল মালেক জানান, রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত তিন আসামিই কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন।