
মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলায় গ্রাম আদালতের একটি সালিশ বৈঠকে উপজেলা যুবদলের সদস্য কাজী সালাউদ্দিন শিমুলকে মারধরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব আবু সাদাত শাহিন (মোল্লা শাহিন)-এর কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। পরে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষ থানায় পাল্টাপাল্টি মামলা করেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার দুপুরে উপজেলার চালা ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে একটি পারিবারিক বিরোধ নিষ্পত্তির লক্ষ্যে গ্রাম আদালতের সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান আব্দুল গাফ্ফার, প্রশাসনিক কর্মকর্তা, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং উভয় পক্ষের সমর্থকেরা উপস্থিত ছিলেন।
অভিযোগ রয়েছে, সালিশ চলাকালে উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আশিকুজ্জামান শিপুর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত উপজেলা যুবদলের সদস্য কাজী সালাউদ্দিন শিমুলের সঙ্গে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে মারধরের ঘটনা ঘটে। এতে সালিশ বৈঠক পণ্ড হয়ে যায়।
চালা ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান আব্দুল গাফ্ফার বলেন, ‘সালিশ বৈঠক চলাকালে হঠাৎ উত্তেজনা সৃষ্টি হলে মারধরের ঘটনা ঘটে। পরে বৈঠক আর চালানো সম্ভব হয়নি।’
ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আব্দুল বাসেদ বলেন, ‘পারিবারিক বিষয় নিয়ে বৈঠক চলছিল। একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা থেকে মারধরের ঘটনা ঘটে।’
এদিকে শিমুলকে মারধরের ঘটনার পর হরিরামপুরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। অভিযোগ রয়েছে, বুধবার সন্ধ্যার পর উপজেলার আন্দারমানিক এলাকায় উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব মোল্লা শাহিনের কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়। প্রতিপক্ষের অভিযোগ, এ ঘটনায় আশিকুজ্জামান শিপুর অনুসারীরা জড়িত ছিলেন।
স্থানীয় রাজনৈতিক সূত্রগুলোর দাবি, উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব মোল্লা শাহিন স্থানীয় সংসদ সদস্য প্রকৌশলী মঈনুল ইসলাম শান্তর অনুসারী হিসেবে রাজনীতি করেন। অন্যদিকে উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আশিকুজ্জামান শিপু বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতার অনুসারী হিসেবে পরিচিত। দীর্ঘদিনের অভ্যন্তরীণ বিরোধের জেরে সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো প্রকাশ্যে এসেছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
ঘটনার পর শুক্রবার বিকেলে কাজী সালাউদ্দিন শিমুল বাদী হয়ে হরিরামপুর থানায় একটি মামলা করেন। মামলায় উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব মোল্লা শাহিন, যুবদল নেতা কাইয়ূম মোল্লা, মিশন চৌধুরী, উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক কবির হোসেনসহ ১১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
অন্যদিকে একই দিন রাতে নিজের কার্যালয়ে ভাঙচুর ও পেট্রোলবোমা হামলার অভিযোগে আবু সাদাত শাহিন আরেকটি মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আশিকুজ্জামান শিপু, ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রদলের সহসভাপতি শাকিল মোল্লা, হরিরামপুর উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক নাসির উদ্দীন, বয়রা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মিরাজ হোসেন, উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মেরাজ হোসেন রাজ, ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক ও জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নিরব সিকদারসহ ৩১ জনকে আসামি করা হয়েছে।
পাল্টাপাল্টি মামলার পর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। উভয় পক্ষের মধ্যে শক্তি প্রদর্শনের অভিযোগও উঠেছে।
হরিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ আফজাল হোসেন বলেন, ‘গ্রাম আদালতে মারধর এবং কার্যালয়ে ভাঙচুরের ঘটনায় পৃথক দুটি মামলা হয়েছে। মামলাগুলোতে যুবদল ও ছাত্রদলের একাধিক নেতাকর্মীকে আসামি করা হয়েছে। কার্যালয়ে ভাঙচুরের মামলায় সজল নামে একজনকে শুক্রবার রাতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে শনিবার আদালতে পাঠানো হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।’