
সাভারে মাদক কারবারিদের আস্তানায় অভিযানে গিয়ে এক দুর্ধর্ষ হামলার শিকার হয়েছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। মাদক চক্রের সদস্যরা পুলিশের ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়ে দুই পুলিশ কর্মকর্তাকে রক্তাক্ত করেছে এবং তাদের হেফাজত থেকে পরোয়ানাভুক্ত এক আসামিকে ছিনিয়ে নিয়ে গেছে।
গত মঙ্গলবার (৯ জুন) রাতে সাভার পৌর এলাকার কাঞ্চনপুর মহল্লায় এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে।
হামলায় গুরুতর আহত দুই পুলিশ কর্মকর্তা হলেন—সাভার মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) এস এম শামীম এবং সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মশিউর রহমান। ঘটনার পরপরই তাদের রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। পরবর্তীতে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
সাভার মডেল থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, একটি মাদক মামলার গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত (ওয়ারেন্ট) আসামি রফিকুল ইসলামকে ধরার জন্য মঙ্গলবার রাতে ওই এলাকায় বিশেষ অভিযান চালানো হয়। গোপন খবরের ভিত্তিতে সাধারণ পোশাকে (সিভিল ড্রেস) থাকা ওই দুই পুলিশ কর্মকর্তা কাঞ্চনপুর মহল্লা থেকে রফিকুলকে সফলভাবে আটক করেন।
তবে রফিকুলকে হাতকড়া পরানোর পরপরই তার সহযোগীরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে পুলিশ কর্মকর্তাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। মাদক কারবারি চক্রের সদস্যরা পুলিশ সদস্যদের লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি, চড় মারতে থাকে এবং একপর্যায়ে ইট দিয়ে মাথায় ও শরীরে আঘাত করে গুরুতর জখম করে। এই হট্টগোলের সুযোগে তারা রফিকুল ইসলামকে পুলিশের হাত থেকে জোরপূর্বক ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঘটনার সময় সেখানে বেশ কিছু মানুষের সমাগম ছিল। পুলিশকে মারধর শুরু হলে সাধারণ মানুষের কৌতূহলী ভিড়ের মধ্য থেকেও কয়েকজন অপরাধীদের সঙ্গে যোগ দিয়ে পুলিশের ওপর হামলায় অংশ নেয়।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, পুলিশের হেফাজত থেকে পালিয়ে যাওয়া রফিকুল ইসলাম ওই এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে মাদক কারবারের একটি বড় সিন্ডিকেট পরিচালনা করে আসছিল। আর সেদিন যারা পুলিশের ওপর বর্বরোচিত হামলা চালিয়েছে, তাদের প্রায় সবাই এই মাদক চক্রের সক্রিয় সদস্য ও স্থানীয় সন্ত্রাসী।
সাভার মডেল থানা প্রশাসন জানিয়েছে, বর্তমানে চিকিৎসাধীন দুই পুলিশ কর্মকর্তার শারীরিক অবস্থা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে পলাতক মূল আসামি রফিকুল ইসলাম ও পুলিশের ওপর হামলায় জড়িত অন্যান্য অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে পুরো এলাকায় বিশেষ চিরুনি অভিযান শুরু করা হয়েছে।